১৫ বছর বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেট আলোড়ন তৈরি করেছেন বৈভব সূর্যবংশী। বাঘা বাঘা সব বোলারদের পিটিয়ে এরই মধ্যে পেয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা মারকুটে ব্যাটারের খেতাব। অনুমিতভাবেই এই কিশোর ক্রিকেটারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয়রা। এমনকি পাকিস্তানেও চলছে সূর্যবংশী বন্দনা।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সবশেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩৭ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার সূর্যবংশী; এদিন ৩৬ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন। এটা আইপিএলে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে গত মৌসুমে ৩৫ বলে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছান সূর্যবংশী। ধারাবাহিকভাবে ব্যাটিং ঝড় তোলায় আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। এই বয়সে তার ব্যাটে এত ধার দেখে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক নোমান নিয়াজ তো মজার ছলে বলেই ফেললেন—সূর্যবংশীর শরীরে এআই মেশিন বসানো থাকতে পারে। এ জন্য এই ব্যাটারকে ল্যাব টেস্টে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের এক টিভি অনুষ্ঠানে নিয়াজ বলেন, ‘এই ছেলেটা (সূর্যবংশী) কী জিনিস! ওয়াডা যেমন ডোপ টেস্ট করে, ওকে কোনো ল্যাবে পাঠানো উচিত। মনে হচ্ছে ওর মধ্যে এআই চিপ লাগানো আছে (হাসি)। সে অবিশ্বাস্য! আমি তার কাছ থেকে অনেক আশা করছি। কী দারুণ খেলোয়াড়!’
হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২৭৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছেন সূর্যবংশী। তার মতো একজন ব্যাটারের কাছে এই স্ট্রাইকরেট পছন্দ হয়নি নিয়াজের। হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, ‘সূর্যবংশী হায়দরাবাদের বিপক্ষে একটু ধীরে খেলেছে। তার স্ট্রাইক রেট ৩০০ হওয়া উচিত ছিল!’
সামনের দিনগুলোতে সূর্যবংশী আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন বলে মনে করেন নিয়াজ, ‘সাধারণত ১৮ বছর বয়সে শরীর পুরোপুরি গঠন পেতে শুরু করে—কাঁধ চওড়া হয়, পেশি গড়ে ওঠে, ট্রাইসেপস-বাইসেপস শক্ত হয়, হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের প্রভাবে শরীরের শক্তি বাড়ে। অর্থাৎ সামনে তার আরও উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে।’
সূর্যবংশীর বিশেষ কিছু গুণ নিয়েও কথা বলেন নিয়াজ, ‘সূর্যবংশী যখন জন্মেছে, তখন বিরাট কোহলি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাকে কী দিয়ে আলাদা করা যায়? আমি খুঁজে দেখেছি—শক্তি নয়, বরং টেকনিকই তাকে এগিয়ে রাখে। বিশেষ করে কবজির ব্যবহার এবং শট খেলা ধরণগুলো দারুণ।’