হোম > খেলা > ক্রিকেট

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে কেন বিদ্রূপের শিকার ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক    

অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পর বিশ্ব ক্রিকেটে চলছে বাংলাদেশ বন্দনা। ইয়ান বিশপ, আকাশ চোপড়া, হার্শা ভোগলেরা প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের। সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসাধ্বনি ভেসে আসছে বিশ্ব সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ট্রাভিস হেড-প্যাট কামিন্সদের রীতিমতো ধুয়ে ফেলা হচ্ছে। হতাশ মার্ক ওয়াহ-রিকি পন্টিংয়ের মতো কিংবদন্তিরাও। এবার বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করতে গিয়ে ইংল্যান্ডকে নিয়ে ব্যঙ্গ করল আইসল্যান্ড ক্রিকেট। নিজেদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে আইসল্যান্ড ক্রিকেট লিখেছে,‘মজার তথ্য: গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের যতগুলো টেস্ট জয় রয়েছে, বাংলাদেশেরও এখন ঠিক ততগুলোই।’

আইসল্যান্ড ক্রিকেটের পরিসংখ্যান অবশ্য ঠিকই আছে। ২০১১ সালের ১ আগস্ট থেকে হিসেব করলে ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে একটি করে টেস্ট। বাংলাদেশ ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে বাজিমাত করেছে। ২০১১ সালের ১ আগস্ট থেকে হিসেব করলে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সর্বোচ্চ ৫ টেস্ট জিতেছে ভারত। এই সময়ে দুইবার অ্যাওয়েতে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জিতেছে ভারত। এই তালিকায় দুইয়ে অবস্থান করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত ১৫ বছরে প্রোটিয়ারা ৩ টেস্ট জেতে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে।

সবশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার দুটি টেস্টের কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। দুটিতেই ইনিংসে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে পাঁচ দিনের আগেই। এবারের জয়ী দল বাংলাদেশ। ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮৬ বলে জিতেছে শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজ-মুশফিকুর রহিমদের বাংলাদেশ। জেতার পথে হারিয়েছে কেবল এক উইকেট। যাঁদের অস্ট্রেলিয়ায় ২৩ বছর আগে টেস্ট খেলা তো দূরে থাক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই অভিষেক হয়নি। তাঁরাই এবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিলেন সাড়ে তিন দিনে।

বাংলাদেশের প্রশংসা করতে গিয়ে ইংল্যান্ডকে নিয়ে বিদ্রূপ করল আইসল্যান্ড ক্রিকেট। ছবি: এক্স

তানজিদের সেঞ্চুরির পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে শান্ত (৮৪) ও মিরাজের (৬৫) দুটি ফিফটির অবদান রয়েছে বাংলাদেশের স্কোরকে ৪২৬ পর্যন্ত নিয়ে যেতে। মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসে ঘূর্ণিজাদুতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। প্রতিপক্ষের ২০ উইকেটের মধ্যে ১৪ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন পেসাররা। হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও তাসকিন আহমেদ ২ ও ৩ উইকেট পেয়েছেন ডারউইন টেস্টে।

বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে প্রশংসা ঝরেছে আকাশ চোপড়ার কণ্ঠে। গতকাল নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে এক ভিডিও বার্তায় ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেন, ‘অবশেষে তাদের পেস বোলিংয়ে বিনিয়োগের সুফল মিলছে। এখন তাদের দলে শুধু দু-একজন নয়, বরং চারজন ভালো পেসার আছে। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত এখানে খেলছে। নাহিদ রানার গতি আছে। শরীফুলও বেশ ভালো বল করে। তাদের হাতে এখন প্রচুর বিকল্প রয়েছে। তাই এই জায়গাটায় গুরুত্ব দেওয়া এবং এটিকে দলের মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই মূল কাজ কাজ।’

চোটে পড়ায় নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই ছিটকে গেছেন। ডারউইনে ৯ উইকেটে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। অজিদের হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।