হোম > খেলা > ক্রিকেট

ইমরান খানের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কদের

ক্রীড়া ডেস্ক    

দুই চ্যাপেলসহ অস্ট্রেলিয়ার সাত সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে সোচ্চার ক্রিকেটবিশ্ব। সাবেক অধিনায়কেরা দফায় দফায় পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছেন। এবার অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়কেরা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দিয়েছেন একটা চিঠিও।

ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে সাবেক অজি ক্রিকেটার গ্রেগ চ্যাপেল দেখা সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন। তিনি এবং আরও ছয় অস্ট্রেলিয়ান সাবেক অধিনায়ক মিলে ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন। সেই সাত সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক হলেন গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালান বোর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ।

সাত সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের চিঠিটির একটি কপি পেয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। যৌথ চিঠিতে লেখা, ‘গ্রেগ চ্যাপেল ২০২২ সালে ইসলামাবাদে ইমরান খানের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করেছিলেন। তখন ইমরান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর (গ্রেগ চ্যাপেল) বর্ণনা অনুযায়ী ইমরান ছিলেন সুস্থ, সবল ও ফিট। এখন তাঁর আটকাবস্থার যে খবরগুলো প্রকাশ্যে আসছে, সেগুলোর সঙ্গে সেই চিত্রটি মেলানো কঠিন। আর সে কারণেই আমরা আজ আপনাকে (অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী) লিখছি। কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলা দরকার মনে করেছি।’

ইমরানের নেতৃত্বে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে পাকিস্তান। কদিন আগে ইমরানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান লর্ডসে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট চলার সময় মাইকেল আথারটনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। স্কাই স্পোর্টসের প্রতিনিধি হিসেবে আথারটন যে সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, তখন তুলকালাম হয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়েছিল সেটা।

শুধু খেলোয়াড় ইমরানই নন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর অবদানের কথা যৌথ চিঠিতে স্বীকার করেছেন দুই চ্যাপেলভাই সহ সাত সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘ইমরান পাকিস্তানকে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ানরা তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। একজন ক্রিকেটার হিসেবে, যার দক্ষতা ও নেতৃত্ব আমাদের অভিন্ন এই খেলায় স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। তিনি ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণ করে পাকিস্তানের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।’

ইমরান খানের বয়স এখন ৭৩ বয়স। তাঁর স্বাস্থ্যগত ব্যাপার নিয়ে চিন্তা বাড়ছে সবারই। হিন্দুস্তান টাইমসকে যৌথ চিঠির ব্যাপারে গ্রেগ চ্যাপেল বলেন, ‘তাঁর জেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে। আমরা এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।’

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী।

জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরামের মতো পাকিস্তানি কিংবদন্তিরাও সাবেক সতীর্থ ইমরানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হকের মতে বন্ধু ইমরানের সঙ্গে এখন যা হচ্ছে, তা বর্বরতার শামিল।