লক্ষ্যটা ছিল বেশ বড়; ১৯৬ রানের। এমন লক্ষ্য তাড়া করতে যেমন ব্যাটিং করতে হতো, পুরো ইনিংসজুড়ে তার ছিটেফুটাও দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো বাজে ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে সহজে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে ভারত।
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে ভারত। এর আগে শেষ চারের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে লঙ্কানরা।
করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ১৯৫ রান করেছিল ভারত। জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ৮১ রানে। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পর ভারতের বোলারদের দাপট দেখল বাংলাদেশ। সবমিলে ভুলে যাওয়ার মতো একটা ম্যাচই খেলল তারা।
এক শেফালি ভার্মার রানই করতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতকে বড় পুঁজি এনে দেওয়ার পথে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকান এই ওপেনার। ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেফালির চেয়ে ১৯ রান কম করে অলআউট হলো বাংলাদেশ।
এর আগে সবশেষ নারী এশিয়ান কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচে তাই প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু আরও একটা সেমিফাইনাল হেরে ব্যর্থতার গল্প দীর্ঘ করল বাংলাদেশ।
ভারতের কাছে সেমিফাইনালেও হারলেও পদক জেতার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।
রান তাড়ায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কোনো রান না করেই ফেরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। এরপর একে একে আউটের মিছিলে নাম লেখান সোবহানা মোস্তারি, জ্যোতি, দিলারা আক্তাররা। ৪৯ রানেই ইনিংসের অর্ধেক হারায় বাংলাদেশ। পরের সারির ব্যাটাররাও নাটকীয় কিছু করতে পারেননি। ফলাফল, বাংলাদেশের সঙ্গী বড় হার।
দিলারার ২৭ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ। সুলতানা খাতুন ১২ ও শারমিন আক্তারের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। এ ছাড়া আর কেউ দশকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। মাত্র ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন দীপ্তি শর্মা। সমান উইকেট নিতে ২৫ রান খরচ করেন নন্দনী শর্মা। শ্রী চরনির শিকার দুটি।
ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন হারমানপ্রীত। অধিনায়কের ৩৩ বলের ইনিংসের চেয়েও বেশি আগ্রাসী ছিলেন স্মৃতি মান্ধানা। নাহিদা আক্তারের শিকার হওয়ার আগে ১৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রান এনে দেন এই ওপেনার।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মারুফা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খাতুন ও নাহিদা আক্তার একটি করে উইকেট নেন। সবচেয়ে বেশি রান খরচ করেছেন নাহিদা। ৪ ওভারে ১২ ইকোনমিতে ৪৮ রান দেন তিনি। মারুফার খরচ ৪৩ রান।