কখনো জশ টাঙ, কখনো ওলি রবিনসন—হেডিংলিতে গতকাল পাকিস্তানের ব্যাটারদের রীতিমতো নাচিয়ে ছেড়েছেন। উইকেটও নিয়েছেন সমানে সমান। দুই বোলারই পেয়েছেন পাঁচটি করে উইকেট। কিন্তু দুজনেই যখন সমান উইকেট পেয়েছেন, তাহলে বল নিয়ে উদযাপন করার উপায় কী? বলকে তাই দ্বিখণ্ডিত করে প্রত্যেকে যাঁর যাঁর অংশ নিয়ে গেছেন।
হেডিংলিতে গতকাল শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের শুরুতেই ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখে পাকিস্তান। টাঙ-রবিনসনের যৌথ আক্রমণে ৪৮.১ ওভারে ১৭১ রানেই শেষ সফরকারীরা। দুই বোলার রানও খরচ করেছেন প্রায় কাছাকাছি। রবিনসন ও টাঙ দিয়েছেন ৫১ ও ৪৬ রান। কিন্তু ৫ উইকেট নেওয়ার পর দর্শকদের সামনে বল উঁচিয়ে ধরার যে চেনা পরিচিত উদযাপন, সেটা করার কোনো উপায় থাকছে না। অগত্যা তাই কাটতেই হলো বলটাকে।
যখন টাঙ-রবিনসন মাঠ ছাড়ছেন, তখনই তাঁদের মাথায় বলটা কাটার বুদ্ধি চলে আসে। টিম ম্যানেজমেন্ট হেডিংলির গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে পাঠানোর পর দ্বিখণ্ডিত করা হলো বল। এক অংশ রবিনসনের, অপর অংশটি টাঙের। যেখানে টঙ এই নিয়ে টেস্টে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গী রবিনসনের ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে এটা পঞ্চম ফাইফার।
৫ উইকেট নিয়ে বল দ্বিখণ্ডিত করার ঘটনায় রবিনসন যেন শিশু বনে খেলেন। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৩২ বছর বয়সী ইংলিশ পেসার বলেন, ‘মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় টাঙকে বললাম, ‘চলো, বলটা কেটে দুই ভাগ করি।’ সেও রাজি হয়ে গেল। ক্রিকেটে একই ইনিংসে দুই বোলারের ৫ উইকেট নেওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটে না। অর্ধেক বল তেমন একটা দেখা যায় না।’
বল টুকরো করার ঘটনা এবারই প্রথমবার দেখলেন টাঙ। গ্রাউন্ড স্টাফদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দিনের খেলা শেষে বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে ২৮ বছর বয়সী ইংল্যান্ডের পেসার বলেন, ‘জীবনে প্রথমবারের মতো এমন (বল দ্বিখণ্ডিত করা) কিছু দেখলাম। রবিনসনই এটা আগে বলেছিল। গ্রাউন্ড স্টাফরা দারুণভাবে কাজটা করেছেন। এটা অবশ্যই বিশেষ জায়গায় আমি রেখে দেব।’
বাবর আজম না থাকায় হেডিংলি টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সালমান আলী আগা। দারুণ কিছুর ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন সালমান। তবে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক ২৯ বলে ৪ চারে ২১ রান করে বিদায় নেন। তাঁকে বোল্ড করেন টাঙ।
পাকিস্তানের ১৭১ রানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন আব্দুল্লাহ শফিক। রবিনসনের বলে তিনি বোল্ড হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪২ রান করা ইমাম-উল-হকের উইকেট নিয়েছেন টাঙ। তৃতীয় উইকেটে শফিক-ইমামের ৯১ রানের জুটি ছাড়া বলার কিছু নেই।
জবাবে ইংল্যান্ড ৪৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে। দুই ওপেনার বেন ডাকেট ও এমিলিয়ানো গে করেন ১৫ ও ৩৩ রান। ডাকেটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ আব্বাস। গের উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আলী। তৃতীয় উইকেটে নতুন টেস্ট অধিনায়ক জো রুট ও জর্ডান কক্স ৯০ বলে ৬৪ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েছেন। রুট ও কক্স ৩৭ ও ২৩ রানে অপরাজিত। ২৫ ওভারে ২ উইকেটে ১১২ রান করেছে ইংলিশরা।