প্রথম টেস্ট হারায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে অস্ট্রেলিয়ার। সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্ট জিততেই হবে স্বাগতিকদের। এমন সমীকরণে বেশ আত্মবিশ্বাসী অজিরা। ঘুরে দাঁড়িয়ে আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে বাংলাদেশকে হারানোর বার্তা দিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি।
সংবাদমাধ্যমকে ক্যারি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটা আমাদের পরিকল্পনামাফিক যায়নি। এসব নিয়ে কথা হয়েছে। এমনিতেও নিজেদের মধ্যে অনেক কথা হয়। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। সবাই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া, এগিয়ে যেতে মরিয়া। এরকম চ্যালেঞ্জে পড়লে আমরা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াই, এবারও সেটাই করতে চাচ্ছি।’
ম্যাকাই টেস্ট হবে এই সংস্করণে ক্যারির ৫০তম ম্যাচ। তার আগে বেশ উচ্ছ্বসিত এই ক্রিকেটার, ‘টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতে তো আপনি এক্সাইটেড থাকবেনই। ম্যাচ ধরে ধরে এগোবেন আপনি। আমি চেয়েছি আমার ভূমিকাটা পালন করে যেতে। দারুণ মজা ছিল এই দলের হয়ে খেলাটা। ৫০ টেস্ট খেলতে পারা দারুণ ব্যাপার, তবে আমি আরও খেলতে চাই। সামনে আমার জন্য আরও একটি সুযোগ। শুরুতে ভেবেছিলাম খেলাটা সম্পর্কে আরও শিখতে পারবে এবং উন্নতি করতে পারব। এই ৫০ টেস্টে অনেক মজা হয়েছে, অনেক ভালো ব্যাপার ছিল, সাফল্য ছিল এবং সামনেও সাফল্য আসবে।’
বাংলাদেশের কাছে প্রথম টেস্টে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের দলে পরিবর্তন এনেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। খারাপ ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন জেক ওয়েদারাল্ডকে। দলে ডাকা হয়েছে ম্যাট রেনশকে। এর মাধ্যমে প্রায় তিন বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন ৩০ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার।
রেনশের প্রতি বেশ আত্মবিশ্বাসী ক্যারি। তিনি বলেন, ‘সে (রেনশ) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগেও খেলেছে, যদিও অনেক আগে। তার উন্নতিটা আমি দেখেছি। মানসিকভাবে সে ভালো জায়গায় আছে। সাদা বলে বেশ ভালো খেলেছে সে। গত কয়েক বছরে যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে, সেগুলো সে ভালোভাবেই সামলেছে। সে আরও একটি সুযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টপ অর্ডারে, অবশ্যই এটা লুফে নিতে মুখিয়ে আছে। শিল্ডে গত মৌসুমে দারুণ খেলেছে। আমরা সবাই জানি সে কতটা ভালো প্লেয়ার। এই গ্রুপে সে বেশ ভালোভাবে এসেছে। আশা করি ট্র্যাভের (ট্রাভিস হেড) সাথে সে ভালোই করবে (ওপেনিংয়ে)।’
রেনশের ব্যাটিং নিয়ে ক্যারি আরও যোগ করেন, ‘সে এখন অনেক পরিপক্ক ক্রিকেটার। বয়স ৩০ বছর হতে হতে আপনি নিজের সম্পর্কে এবং খেলাটা সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে এবং বুঝতে পারবেন। সে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলেছে। চ্যালেঞ্জ সম্পর্কেও ভালো যায়। অ্যাটাক ডিফেন্সের মাঝে সে ব্যালেন্সটাও ভালোভাবেই জানে। কুইন্সল্যান্ডের হয়ে ব্যাটিং ওপেন করে সে শেফিল্ড শিল্ডে। গত বছর তিনটি সেঞ্চুরিও করেছে। সে সব কন্ডিশনেই আসলে ভালো করতে সক্ষম। ভারতেও সেঞ্চুরি আছে। সিডনিতে টেস্ট সেঞ্চুরি আছে। এখন সে আরও ভালো প্লেয়ার। দারুণ সুযোগ, আশা করি সে লুফে নেবে।’