সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারছেন না দুই বছরের বেশি সময় ধরে। ৩৯ বছর বয়সী তারকা অলরাউন্ডার অতীতের মতো আবারও জানিয়েছেন—দেশে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, সাকিবের দেশে ফেরার সুযোগ নেই।
নতুন করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাকিব দেশে ফিরতে চাওয়ার কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি একজন আইনজীবীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে করা ‘মনগড়া’ অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর সেই আবেদনের কোনো জবাব তিনি পাননি। সাকিব জানিয়েছেন, দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তিনি আগ্রহী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ায় সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয়টাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। তাঁর নামে হত্যা মামলা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলতে অবস্থান করছেন শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কা থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে এই নিশ্চয়তা দেয় যে, আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আনন্দের সঙ্গে দেশে ফিরব। আদালতের মুখোমুখি হব এবং যা যা প্রয়োজন, সবই করব। আমি জানি, কিছুই করিনি আমি।’
দুই বছর ধরে সাকিব তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা বাংলাদেশেই রয়েছেন, তবে তাঁদের দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমাদের সবার জন্যই সময়টা কঠিন ছিল, তবে আমরা কোনোভাবে টিকে আছি।’
এদিকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাকিবের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁর দেশে ফেরার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবেই জিনিসটাকে দেখছিলাম। এরপরে আর মনে হয় না যে, ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।’
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাকিবকে দেশে ফিরতে হবে জানিয়ে আমিনুল হক আরও বলেন, ‘যে স্বৈরাচারের মঞ্চে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম, এখন আর কোনো সুযোগ নেই। সে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।’