হোম > খেলা > ক্রিকেট

ইমরান খানের পাশে এখন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়কও

ক্রীড়া ডেস্ক    

ইমরান খানের চিকিৎসার দাবি তুললেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ছবি: সংগৃহীত

সময় যতই যাচ্ছে, ইমরান খানকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে। গত ৬ মাসে দুই দফায় তাঁর চিকিৎসার দাবিতে সাবেক অধিনায়কেরা পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছেন। এবার পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের পাশে দাঁড়ালেন প্যাট কামিন্সও। সামাজিক মাধ্যমে ইমরানের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক।

অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, মাইকেল ব্রিয়ারলিসহ সাবেক ২১ অধিনায়ক গত ২৩ আগস্ট যৌথভাবে এক চিঠিতে ইমরান খানের চিকিৎসার দাবিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে চিঠি দিয়েছিলেন। কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার ‘দ্য গ্রেড ক্রিকেটার’ শোতে এই চিঠির ব্যাখ্যায় গ্রেগ চ্যাপেল বলেছিলেন, ‘ইমরানের বয়স এখন ৭৩ বছর। ছয় বছর আগে তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানে দেখা করেছিলাম। কিন্তু তখন যতটা শারীরিকভাবে ফিট ছিলেন, এবার আর তেমনটা নেই।’

নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে চ্যাপেলের এই ভিডিও আজ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক লিখেছেন, ‘গ্রেগ চ্যাপেল এবং অন্য সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কেরা যা বলেছেন, সেটার সঙ্গে আমি একমত। আদালতের নির্দেশে যে চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে, আশা করছি সেটা ঠিকভাবে হবে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করতে পারবেন। প্রত্যেক মানুষের যেমন মর্যাদা পাওয়া উচিত, ইমরান খানের সঙ্গেও তেমন আচরণ করা হবে বলে আশা করছি।’

লর্ডসে গতকাল পাকিস্তান-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মাইকেল আথারটন। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের কাছে চিঠি দেওয়া ২১ জন সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেট অধিনায়কের একজন তিনি। দাবি মানা না হলে পাকিস্তান দল মাঠে না নামার হুমকিও দিয়েছিল বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সংবাদ প্রচার না করতে সম্প্রচারকারী স্কাই স্পোর্টসকে অনুরোধ করেছিল।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তাকে তাঁর বর্তমান স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের পর নির্ধারিত অপেক্ষার সময় না মানার অভিযোগে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এর আগেও এ বছরের শুরুতে ১৪ সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের কাছে একটি খোলাচিঠি লিখেছিলেন। তাঁরা ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই অধিনায়কের মধ্যে ছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেবের মতো কিংবদন্তিরা। তাঁরা এবারও আছেন। আর ২৩ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন ২১ সাবেক অধিনায়ক। আজ ইমরানের সুচিকিৎসার দাবি তুলেছেন কামিন্স।