হোম > খেলা > ক্রিকেট

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে জ্যোতিদের চাই ১৫০ রান

ক্রীড়া ডেস্ক    

স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ফিল্ডারদের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালে ওঠার লড়াইটি বাংলাদেশ নারী দলের জন্য ছিল প্রতিশোধের ম্যাচও। মেয়েদের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির আগের আসরের সেমিফাইনালে এই ভারতের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই নিগার সুলতানা জ্যোতিরা খুব করেই ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই চাওয়ার সঙ্গে সংগতি রেখে সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধে অন্তত পারফরম্যান্সটা হয়নি না বাংলাদেশের। দুবাইয়ে আগে ব্যাট করে ভারত ৬ উইকেটে ১৪৯ রান তুলেছে।

টস জয়ের হাসিটা অবশ্য হেসেছিল বাংলাদেশই। ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন হারমানপ্রীত কৌরের দলকে। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা তুলে ধরে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়েও দিয়েছিলেন স্পিনার সুলতানা খাতুন। আউট হওয়ার আগে ভারতীয় নারী দলের এই ওপেনার ৫ বলে করেন ২ রান। স্কোরবোর্ডে ভারতের রান তখন ৯। এরপর অভিজ্ঞ শেফালি ভার্মাকে নিয়ে প্রতিকা রাওয়ালের প্রতিরোধ। দশম ওভারে এই জুটি যখন ছিন্ন হলো, তখন ভারতের রান ২ উইকেটে ৫৯। ২৪ বলে ২০ রান করা প্রতিকা রাওয়ালের বিদায়ে ভাঙে ৪৪ বলে খেলা ৫০ রানের এই জুটি। উইকেট নেন আরেক স্পিনার রাবেয়া খাতুন।

প্রথম স্পেলে দল তাকিয়ে ছিল মারুফা আক্তারের দিকে। আগের দিনও তিনি ভালো করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, নিজের সেরাটা দিয়েই উইকেটে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম স্পেলে দুই ওভার বল করে ১৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থেকেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। অবশ্য প্রথম স্পেলে তাঁর উইকেট না পাওয়ার জন্য দায়ী দলের ফিল্ডিংও। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাঁর বলে ক্যাচ উঠেছিল মিড অনে। ফিল্ডার ধরতে ব্যর্থ। এর আগে দ্বিতীয় ওভারেও ‘জীবন’ পেয়েছিলেন শেফালি। সেই দফায় সুলতানার বলে বাউন্ডারি লাইনের কাছাকাছি ক্যাচ মিস করেন ফাহিমা খাতুন। শুধু এই দুটিই নয়, পরে আরও ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশ দলের ফিল্ডাররা। মিস করেছেন শেফালিকে রানআউট করার সুযোগও।

একাধিকবার জীবন পাওয়া এই শেফালিই ভিত গড়ে দেন ভারতীয় ইনিংসের। শেষ পর্যন্ত সুলতানার স্পিনে শিকার হওয়ার আগে শেফালি ৪০ বলে খেলেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৪ রান। ৭টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংসটির স্ট্রাইকরেট ১৬০। ২৮ বলে ২৪ করে অপরাজিত থাকেন হারমানপ্রীত। বল হাতে সবচেয়ে সফল সুলতানা; ৩০ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

ভারত যে ১৫০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে, এটাই তাড়া করা কঠিন বাংলাদেশ দলের জন্য। বরাবরের মতো এই টুর্নামেন্টেও বাংলাদেশ দলের অস্বস্তির জায়গা ব্যাটিং। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান তুললেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ তুলতে পারে ১১৪ রান। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে তো করতে পেরেছিল আরও কম—১০৩ রান। ভাগ্য ভালো—বোলারদের কল্যাণেই জিতেছে সেই ম্যাচ। কিন্তু প্রতিদিনই কে বোলাররাই ম্যাচ জেতাবেন!

ভারতের দেওয়া লক্ষ্যটা বড় হলেও অসম্ভব কিছু নয়। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের মধ্যে ফাইনালে ওঠার একটা তাগিদ আছেই। দলের লক্ষ্যও ছিল ফাইনাল খেলা এবং শিরোপা জয়। টুর্নামেন্ট খেলতে দেশ ছাড়ার আগে এই লক্ষ্যের কথাই বলে গিয়েছিল নারী ক্রিকেট দল। ভারতকে হারিয়ে কি ফাইনালে উঠে কথা রাখতে পারবেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা?