হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘পাকিস্তানের নির্বাচকের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা’

ক্রীড়া ডেস্ক    

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নির্বাচক আকিব জাভেদ। ছবি: সংগৃহীত

‘আনপ্রেডিক্টেবল’ নাম তো এমনি এমনি বসেনি পাকিস্তানের নামের সঙ্গে। মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই অবস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও (পিসিবি)। কোচ আসেন, কোচ যান। শুধু তাই নয়, অধিনায়ক পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে নিয়মিত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার জেসন গিলেস্পি তোপ দাগলেন পিসিবির নির্বাচকের ওপর।

প্রায় দুই বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হলেও গিলেস্পি যেন তা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কারণ, পিসিবির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকলেও আট মাসেই শেষ হয়ে যায় সম্পর্ক। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লাল বলের কোচ হয়ে ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন। একই সময়ে (২০২৪ সালের এপ্রিলে) গ্যারি কারস্টেন পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তখন মাত্র ছয় মাস দায়িত্বে থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন।

হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর পাকিস্তান দলে চলছে টালমাটাল অবস্থা। নির্বাচকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিসবাহ উল হক। আকিব এরপর নির্বাচকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্র ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’-কে আজ গিলেস্পি বলেন, ‘আকিব জাভেদ সম্প্রতি এসে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক সাদা বলের কোচ গ্যারি কারস্টেন এবং আমাকে দায়ী করেছেন। আকিব গত দুই বছর ধরে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন। অথচ আমরা সেখানে ছিলামই না।’

পাকিস্তান দলের বাজে অবস্থায় কারস্টেন-গিলেস্পির ওপর দায় চাপানোর কোনো মানেই বের করতে পারলেন না গিলেস্পি। আকিবকে দায়ী করে গিলেস্পি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তারপরও কোনোভাবে তিনি (আকিব) বলছেন, সবকিছুর জন্য আমরা (গিলেস্পি-কারস্টেন) দায়ী। এর কোনো মানে হয়? আমার মনে হয়, আকিব জাভেদের নিজের দিকে আয়নায় তাকানো উচিত।’

হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় টেস্টে তারা হেরেছে ১৯৪ রানে। টানা দুই ম্যাচে ভরাডুবির পর টেস্টের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ড সফররত দলের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেই সাত ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানও। এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টের দলে যুক্ত করা হয় পাঁচ ক্রিকেটারকে।

লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জন্য খারাপ লাগছে গিলেস্পির। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আমার খারাপ লাগছে। এটা তাদের জীবিকা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে। এটা স্পষ্ট যে তাদের কোনো নির্বাচনী কৌশলই নেই। বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে।’

বাবর প্রথম টেস্টে খেলতে না পারায় সালমানকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় টেস্টে বাবর অধিনায়ক হয়ে ফেরায় সালমান একাদশ থেকেই বাদ পড়েছিলেন। পরবর্তীতে তো তাঁকে ফেরত পাঠানো হলো দেশে। গিলেস্পি বলেন, ‘সালমান আলী আগা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকেই বাদ পড়ল। তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এটা কীভাবে সম্ভব? প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের সঙ্গে আসলে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এটা স্পষ্ট।’

হেডিংলির পর লর্ডসে হেরে টেস্টে পাকিস্তানের জয়ের চেয়ে হারই বেশি। ১৯৫২ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৪৭৩ টেস্ট খেলে তারা জিতেছে ১৫৩ ম্যাচ, হার ১৫৪টিতে। ড্র করেছে ১৬৬ ম্যাচ। এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্বে থাকছেন মাইক হেসন। অ্যাশলে নফকে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন। এজবাস্টনে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড সিরিজের তৃতীয় টেস্ট।