ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়—দুবাইয়ে গত রাতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কর্মকাণ্ড দেখে এমনটা বললেও কেউ ভুল করবেন না। ভেন্যু এক, মঞ্চও এক, টুর্নামেন্টও এক। পার্থক্য শুধু পুরুষ ক্রিকেট দলের পরিবর্তে নারী ক্রিকেট দল। তবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনা বারবার ঘটায় হতাশ মদন লাল।
দুবাইয়েই গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জেতার পর ভারতের ছেলেরা শিরোপাছাড়া উদযাপন করেছিল। কারণ, নাকভি একই সঙ্গে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিব) চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শ্রীলঙ্কাকে গত রাতে হারিয়ে অষ্টস শিরোপা জিতেও হারমানপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানারা একই কাজ করলেন।
নাকভির হাত থেকে বারবার ভারতীয় ক্রিকেট দলের শিরোপা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা দেখে বিরক্ত লাল। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার বলেন, ‘আবারও সেই একই ঘটনা। আমরা যদি এমন আচরণ করতে থাকি, তাহলে কোনো টুর্নামেন্টেই পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা উচিত নয়। আমি জানি, এটি বোর্ডের সিদ্ধান্ত।’
২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত বছর অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তানের অধিনায়কেরা টসের সময় করমর্দন করেননি। এমনকি ম্যাচ শেষেও ক্রিকেটাররা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেননি। আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শিরোপা ছাড়াই উদযাপন করেছিল সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত।
দুবাইয়ে গত রাতে নারী এশিয়া কাপ ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে দেখা গেলেও উপস্থিত হননি ভারতের দলপতি হারমানপ্রীত কৌর। পরে বিষয়টি পরিষ্কার করেন ভারতের কোচ অমল মজুমদার। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি বিসিসিআই নিয়েছে। আমরা এর পাশে আছি। আমাদের জন্য এই টুর্নামেন্ট শেষ। আমরা চ্যাম্পিয়ন। সেটিই যথেষ্ট।’
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াও জানান, নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি আগেই নেওয়া হয়েছিল। বিকল্প হিসেবে এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনির মাধ্যমে ট্রফি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছাড়াই এশিয়া কাপের শিরোপা উদ্যাপন করে ভারত।