ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যে পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে ছিল, তা নয়। তবু নিশিনে আজ সেমিফাইনালে অনেকটা সময় পাকিস্তানকে চাপে রাখে। তবে মোস্তাফিজুর রহমানের একটা ওভারেই সব শেষ। বাংলাদেশের হারের পর তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সাংবাদিকদের একহাত নিলেন লিটন দাস।
ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১১২ রানের লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তানের একটা পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৭৬ রান। হাতে ৬ উইকেট নিয়ে ওভারপ্রতি ৯ রান করে যখন দরকার, তখন মোস্তাফিজের কাছে সুযোগ ছিল নিজের জাদু দেখানোর। কিন্তু সেই ওভারে ২৩ রান দিলে বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে যায়। শেষমেশ ৯ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের সহজ জয় পায় পাকিস্তান।
৬ উইকেটের হারে বাংলাদেশের সোনা জয়ের স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে যখন লিটন আসেন, তখন তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে যে মোস্তাফিজ ছাড়া বিকল্প কেউ ছিল কিনা। প্রশ্নটা শুনে একরকম বিরক্তই হলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সাংবাদিকদের লিটন বলেন,
‘অনেকেই ছিল বিকল্প। আজ মোস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে নিশ্চয়ই করতেন না। এত দিন করে এসেছে। আমি মোস্তাফিজকে সেরা মনে করে তাকে দিয়ে করিয়েছি। আপনার কাছে অন্য কেউ সেরা বিকল্প হলে তাকে দিয়ে করাতেন।’
মোস্তাফিজের এক ওভারে দেওয়া ২৩ রানের ২২ রান একাই নিয়েছেন আব্দুল সামাদ। এক ছক্কার পাশাপাশি চারটি চার মেরেছেন। আর ১১.৩ ওভারে ১১২ রানের মধ্যে পাকিস্তানের ৮৬ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে। ১১ চার ও ৭ ছক্কা রয়েছে পাকিস্তানের ইনিংসে। লিটনের আফসোস, ‘ইস! বোলিংটা যদি একটু ভালো হতো।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি মিডল ওভারে ভালো বোলিং করতাম, যদি ছক্কা কম হতো, তাহলে জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকত।’
টাইফুনের মৌসুমে জাপানে নিয়মিত বৃষ্টির কারণে ক্রিকেটই অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের চার ম্যাচ বৃষ্টির বাগড়ায় ভেস্তে যাওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কা। গতকাল নিশিনে প্রথমবারের মতো রোদ দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি।
আজ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ-পাকিস্তান মাঠে নামলেও সেমিফাইনালের ম্যাচটি ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ৭৫ মিনিট দেরিতে শুরু হয়। পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হারের পর বৈরি আবহাওয়ার প্রসঙ্গও তুলেছেন লিটন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে ঘরে আটকা ছিলাম। আর আমরা টসও হেরেছি। ভালো খেললে ভালো লাগত। কিন্তু এত দিন ঘরে বসে থেকে দারুণ কিছু করে বলাও অতটা সহজ না।’
ভেজা আউটফিল্ডের কারণে ৭৫ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হয়। ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৭ ওভার কমে নেমে আসে ১৩ ওভারে। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশ ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে করে ১১৩ রান। মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংসটাই দলকে ১১৩ পর্যন্ত যেতে সহায়তা করে। ২ চার ও ৪ ছক্কা মেরেছেন তিনি। প্রথম সারির তিন ব্যাটার অধিনায়ক লিটন (১), তানজিদ হাসান তামিম (৭), পারভেজ হোসেন ইমন (১) এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন।
পাকিস্তানের সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ১১৩ বলের লক্ষ্যে নেমে ৯ বল হাতে রেখে দলটি ৬ উইকেটে জিতে যায়। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন সামাদ। ১৫ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন। বাংলাদেশের শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজ ও নাসুম একটা করে উইকেট নিয়েছেন।