ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেশি গতির বোলিংয়ের পাশাপাশি বাউন্সারে ব্যাটারদের ভড়কে দিতে ওস্তাদ নাহিদ রানা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই বছরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইয়ান বিশপ, ওয়াকার ইউনিস, ওয়াসিম আকরামদের মতো ক্রিকেট বিশ্লেষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন রানা। তবে সদ্য জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে চোটে পড়ায় এখন বাংলাদেশের তরুণ গতিতারকার অস্ট্রেলিয়া সফর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৭ জুলাই ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে রানা চার হজম করেন রায়ান বার্লের কাছে। এরপরই পিঠের বাঁ পাশে হাত দিয়ে ফিজিওকে সঙ্গে নিয়ে তৎক্ষণাৎ মাঠ ছাড়েন রানা। ফলশ্রুতিতে খেলতে পারেননি সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি। বাংলাদেশের গতিতারকার চোট নিয়ে তখন থেকেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পেস বোলাররা বোলিংয়ের পর চোটে পড়বে। এটা খেলারই একটা অংশ। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক যদি সে চোটে পড়ে যায়, যদি খেলতে না পারে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সবরকম চিন্তাভাবনা করেই কিন্তু এগিয়েছিলাম। যে কারণে আমরা তাকে টেস্টে খেলাইনি। ওয়ানডেতেও সব খেলাইনি।টি-টোয়েন্টিও হয়তো দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলত না। কিন্তু এটা হয়ে গেছে।’
চোটে পড়ায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতেই পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। সেই সিরিজ চলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন শরীফুল ইসলাম। তিনিও সিরিজের একটা টেস্ট খেলতে পারেননি। ১৯ জুলাই সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি শেষে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও উল্লেখ করেছিলেন সতীর্থদের চোটের কথা।
মোস্তাফিজ ২০২২ সালের পর টেস্টে খেলেননি। তবে রানা, তাসকিন, শরীফুল তো টেস্টের নিয়মিত বোলার। ২০২২ ও ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে যে বাংলাদেশ দুইবার টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করে, সেখানে এই পেসত্রয়ীর অসামান্য অবদান রয়েছে। আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজ নিয়ে তাই পেসারদের ওয়ার্কলোডের কথা উল্লেখ করেছেন সুমন। রানার ঘটনা উল্লেখ করে বিসিবি নির্বাচক বলেন, ‘দেখুন, আমার কাছে এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা। দেখুন নাহিদ রানা, তাসকিন—যারা টেস্টে আমাদের নিয়মিত বোলার, শরীফুল.... যেহেতু আমাদের সামনের যে টেস্ট সিরিজটা আছে সেটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, সেটাকে কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচটা অতটা প্রাধান্য দিইনি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েন রানা। তবে এই সিরিজে একটা ওয়ানডে মিস করেছেন তিনি। জিম্বাবুয়ে সফরে দুটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছেন বাংলাদেশের গতিতারকা। আর এই সিরিজে টেস্ট দলেই তো তিনি ছিলেন না। বাংলাদেশের গতিতারকাকে নিয়ে সুমন বলেন, ‘নাহিদ রানা কিন্তু ৩ ওয়ানডের দুইটা খেলেছে, একটাতে খেলেনি। একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে চোটে পড়েছে। আমার মনে হয় যে তার চোট হয়তো আগেই দেখা দিয়েছিল। এটা এখানে না হলে টেস্ট ম্যাচে হয়ে যেত। তো আমরা কিন্তু যথেষ্ট ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করি এবং আমাদের যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করে ফাস্ট বোলারদের, তাদের কিন্তু একটা বড় বিল্ডআপ করার ব্যাপার থাকে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রানার অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এ ছাড়া শরীফুলের তো চোট রয়েছেই। আর ইবাদত হোসেন চৌধুরী পিতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন সুমন। বিসিবি প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘এজন্যই কিন্তু আমরা অপেক্ষা করছি। আমাদের কিন্তু দলটা দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ৫-৬ দিন আগে। আমরা কিন্তু এখন দিতে পারছি না। কারণ, এই চোটের জন্য আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে। ইবাদতের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। সে চেষ্টা করছে আগে চলে আসতে। কারণ, ইবাদত আসলে যাওয়ার আগে ভিসা করে যায়নি। তার ভিসার একটা ব্যাপার আছে। যেহেতু সে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে আছে, তাই তার পরিবারের একটা ব্যাপার আছে।’
পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে সুমন আরও বলেন, ‘আমিও এ ব্যাপারটা নিয়ে এখন অনেক বেশি পরিষ্কার—সেটা হচ্ছে একজন বোলার যখন টেস্ট ম্যাচ খেলতে যায়, তার যেমন বেশি ওভার ওয়ার্কলোডের দুশ্চিন্তা, যদি কম বোলিং করে সেটাও আসলে দুশ্চিন্তা। নাহিদ রানা, তাসকিন এদের যাওয়ার আগেই কিন্তু কিছু ম্যাচ খেলে যেতেই হতো। নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভার বল করতেই হতো। সেটাই কিন্তু যাচাই করে দেখা হয়েছিল। এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়েছে আড়াই দিনে। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা বাংলাদেশ হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। সাদা বলের আরেক সংস্করণ টি-টোয়েন্টি সিরিজের স্কোরলাইন একই হলেও এবারের ফলটা উল্টো। ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।
১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকে। এই ম্যাচ মাঠে গড়াবে ২২ আগস্ট। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।