প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে ৯ উইকেটে জয়ের পথে অজিদের পাত্তা না দিয়ে রীতিমতো দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে সফরকারীরা। সেটার প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিগত র্যাঙ্কিংয়ে। আইসিসি হালনাগাদকৃত সবশেষ র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদরা।
মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাড়ে তিন দিনই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অতিথিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়াকে হাতের নাগালে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান; ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসেও সুবিধা করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এ যাত্রায় ২৮৪ রানে অলআউট হয় তারা। এই ইনিংসে হাসানের শিকার ৩ উইকেট। সবমিলে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই পেসার। ঐতিহাসিক এই জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এবার বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও বড় সুখবর পেলেন হাসান।
২৬ ধাপ উন্নতি করেছেন হাসান। ৫০৩ রেটিং নিয়ে ৩৮ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ এগিয়ে ৩৪-এ উঠে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অলরাউন্ডারের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ৬৫২ রেটিং। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। মূলত তাঁর স্পিন ঘূর্ণিতেই বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। র্যাঙ্কিংয়ে সেটারই সুফল পেলেন মিরাজ।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান তোলে বাংলাদেশ। সফরকারীদের এই বড় ইনিংসের ভীত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করার পথে ১০১ রান এনে দেন এই ওপেনার। ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৪ ধাপ এগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ৮৮ নম্বরে আছেন তানজিদ। সে ইনিংসে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৮৪ রানে আউট হন শান্ত। ৯ ধাপ উন্নতি করে ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংসে মুমিনুল হকের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ ও ৩০* রান। ৫ ধাপ এগিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক। বর্তমানে ৩১ নম্বরে আছেন তিনি। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও উন্নতি করেছেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৯ নম্বরে আছেন তিনি। ৩ ধাপ উন্নতি করা সাদমান ইসলাম আছেন মিরাজের ওপরেই।
অবনতি হয়েছেন লিটন দাসের। ৫ ধাপ পিছিয়ে ২৮ নম্বরে নেমে গেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।