এক আফগানিস্তানই যা একটু চাপে ফেলতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ডাবল সুপার ওভারে চাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আফগানদের হারিয়ে দিয়েছিল প্রোটিয়ারা। বাকি তিন ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে দাপটের সঙ্গে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উড়িয়ে দিল এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গতকাল ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নাম লেখায় নিউজিল্যান্ড। কানাডার দেওয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জিতে সুপার এইটের টিকিট কাটে কিউইরা। দুই দল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ‘ডি’ গ্রুপের আজকের দক্ষিণ আফ্রিকা-আরব আমিরাত ম্যাচটি হয়ে যায় স্রেফ নিয়মরক্ষার। দিল্লিতে আমিরাতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চার ম্যাচের চারটিতেই জিতল প্রোটিয়ারা।
আগে ব্যাটিং করে আরব আমিরাত যখন ১২২ রান করে, তখনই ম্যাচের ফল অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টিতে ১২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতা এ আর এমন কী! তাও আবার এমন মামুলি লক্ষ্য পেয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ‘হট ফেবারিট’ দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ৫.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৫৬ রানে পরিণত হয়।
প্রথম দুই উইকেট পড়ানোর পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন রায়ান রিকেলটন ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দ্বিতীয় উইকেটে ৩০ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন রিকেলটন-ব্রেভিস। পঞ্চাশের কাছাকাছি রানের জুটি গড়ার পর রিকেলটন (৩০), ব্রেভিস (৩৬) দ্রুত আউট হলেও প্রোটিয়াদের জয় নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় তৈরি হয়নি। ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৩ রান করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। আমিরাতের হায়দার আলী, মোহাম্মদ জাওয়াদউল্লাহ, মোহাম্মদ আরফান, মোহাম্মদ ফারুক একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
দিল্লিতে আজ টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক মার্করাম। আগে ব্যাটিং পেয়ে ৪.২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৮ রান করে ফেলে আরব আমিরাত। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে আমিরাত অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিমকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন জর্জ লিন্ডে। ১২ বলে ২ চারে ২২ রান করেন ওয়াসিম।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর খেই হারিয়ে ফেলে আমিরাত। দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররাও তালগোল পাকিয়েছেন। কুইন্টন ডি কক, জ্যাসন স্মিথ, অ্যানরিখ নরকীয়া, করবিন বশ—প্রত্যেকেই একটি করে ক্যাচ ছেড়েছেন। যার মধ্যে ডি কক যে ক্যাচ হাতছাড়া করেছেন, সেটা রীতিমতো অবাক করার মতো। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদাকে পুল করতে যান আমিরাতের ওপেনার আরিয়ানশ শর্মা। আকাশে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকা বল ক্যাচ ধরতে ফিল্ডারদের সরে যেতে বলেন কুইন্টন ডি কক। প্রায় তালুবন্দী করার পরও হাত ফস্কে বল বেরিয়ে যায়।
প্রোটিয়াদের ক্যাচ মিসের সুবিধাও ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারেনি আরব আমিরাত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১২২ রান করেছে আমিরাত। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন আলিশান শারাফু। ৩৮ বলের ইনিংসে ৫ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশ ৪ ওভারে ১২ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। নরকীয়া ও জর্জ লিন্ডে ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন। আমিরাতের ইনিংস শেষে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি নামে। যার ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু দেরিতে শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে প্রোটিয়ারা ব্যাটিংয়ে নামলেও ইনিংসের দৈর্ঘ্য কমেনি। ৪০ বল হাতে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন করবিন বশ।