নারী শুটারদের যৌন ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ থাকা শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ১ জানুয়ারি এনএসসির নির্বাহী পরিচালক মোঃ দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার এনএসসির রয়েছে।
সাজ্জাদকে অব্যাহতি দেওয়ার দিনই অভিযোগকারী নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে শুটিং ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম স্বাক্ষরিত চিঠিতে কোড অফ কন্ডাক্টের ৫, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ধারা ভঙ্গের অভিযোগ এনে কলিকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না।
অলিম্পিক বৃত্তির আওতায় থাকা এই শুটারের বহিষ্কারের বিষয়টি অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও নৌবাহিনী শুটিং ক্লাবকে জানানো হয়েছে।
ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠনের সময় থেকেই বিতর্কিত সাবেক শুটার সাজ্জাদকে নিয়ে আপত্তি ছিল শুটারদের। সার্চ কমিটির সুপারিশ না থাকলেও রহস্যজনকভাবে তিনি পদ পান এবং ফেডারেশনের প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হন। তাঁর বিরুদ্ধে নারী শুটারদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগে মানববন্ধন ও মামলা পর্যন্ত হয়েছে।
এই অভিযোগ তদন্তে এনএসসি এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। এনএসসির তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নিবেদিতা দাসের অধীনে সাজ্জাদ তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৭ ডিসেম্বর মৌখিক সাক্ষ্য দিলেও লিখিত প্রশ্নের উত্তর এখনো দেননি তিনি। জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমার পূর্বেই এনএসসি তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্ত চলাকালীন সময়েও সাজ্জাদ ফেডারেশনে সক্রিয় থাকায় শুটারদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।