পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও আলোচনা থেমে নেই। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে (এসএসসি) বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম দিন (৭ ফেব্রুয়ারি) ম্যাচটা শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে বলেই নয়। আলোচনা মূলত এক ডাচ ক্রিকেটারকে নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয়দের রোষানলের শিকার হয়েছেন তিনি।
এসএসসিতে ৭ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ ফাহিম আশরাফের ক্যাচ নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স ও‘ডাউড মিস করেছিলেন। বেঁচে যাওয়া ফাহিমই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের নায়ক বনে গিয়েছিলেন। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও নেদারল্যান্ডস ম্যাচটা জিততে পারেনি ও’ডাউডের সেই ক্যাচ মিসের কারণে। ডাচ ভক্ত-সমর্থকেরা যতটা না খেপে গিয়েছিলেন, ভারতীয় সমর্থকেরা তাঁর চেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত ছিলেন এই ঘটনায়। তাঁর ইনস্টাগ্রামে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন ডাচ এই ক্রিকেটার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে আজ নামিবিয়া-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ শুরুর আগে ম্যাক্স ও’ডাউড বলেন, ’কিছু কিছু মন্তব্য ছিল খুবই বাজে। কিছু আবার কাউকে বলার মতো ছিল না। মনে হচ্ছিল ডাচ ভক্তসমর্থকদের চেয়ে ভারতীয় ভক্ত-সমর্থকেরা আমার ওপর বেশি ক্ষিপ্ত ছিল।’
১৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ দুই ওভারে ২৯ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে লোগান ফন বিককে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরেছিলেন ফাহিম। ঠিক তার পরের বলে ছক্কা মারতে যান ফাহিম। এজ হওয়া বল লং অন থেকে দৌড়ে এসেও তালুবন্দী করতে পারেননি ও’ডাউড। ঠিক তার পরের চার বলের মধ্যে দুই ছক্কা ও এক চার মেরেছিলেন ফাহিম। পরবর্তীতে শেষ ওভারের তৃতীয় বলে ডি লিডকে কাভার দিয়ে চার মেরে পাকিস্তানকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ফাহিম।
১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রানের ইনিংস খেলার পর ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ফাহিম। আর ক্যাচ মিসের পর ম্যাক্স ও’ডাউডকে নিয়ে বলা ‘নেদারল্যান্ডসের হাসান আলী’ শব্দটা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। কেউ আবার বলেছিলেন, ‘তুমি তো পেশাদার ক্রিকেটার। এত সহজ ক্যাচ কীভাবে মিস করলে?’ কারও মন্তব্য ছিল, ‘ভাই। তুমি ক্যাচটা ধরতে পারতে। তাহলে পাকিস্তান শুরুর দিনই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যেত।’
আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে ৭ উইকেটের আয়েশি জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। তাতে ‘এ’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় তিন থেকে দুইয়ে উঠল ডাচরা। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে নেদারল্যান্ডসের পয়েন্ট ২। ভারত-পাকিস্তানেরও পয়েন্ট ২। তবে নেট রানরেটের কারণে গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে অবস্থান করছে ডাচরা। স্কট এডওয়ার্ডসের নেতৃত্বাধীন ডাচদের নেট রানরেট +০.৩৫৬। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা ভারতের নেট রানরেট +১.৪৫০। +০.২৪০ নেট রানরেট নিয়ে তিনে পাকিস্তান।
‘এ’ গ্রুপের অপর দুই দল নামিবিয়া-যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনো জয়ের দেখা পায়নি। আজ বিশ্বকাপ শুরুর অভিযানে নেমে হোঁচট খেল নামিবিয়া। -১.০৩৩ নেট রানরেট নিয়ে তাদের অবস্থান চারে। ‘এ’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নেট রানরেট -১.৪৫০।