ফেডারেশনগুলোর জন্য প্রতিবছর সরকারি অনুদানের অপেক্ষা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে মোট ১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার সিড মানি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে নবগঠিত ১৪টি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
সরকারের পরিকল্পনায় ফেডারেশনগুলোকে দেওয়া অর্থ মূলত একটি স্থায়ী তহবিল হিসেবে থাকবে। সেই অর্থ বিনিয়োগ করে যে আয় হবে, তার বড় অংশ পাবে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন। আমিনুল হক বলেন, ‘অনুমোদিত সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। এই তহবিল থেকে পাওয়া বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ সরাসরি ফেডারেশনগুলোকে দেওয়া হবে।’
এই লভ্যাংশের অর্থ খেলাধুলার নিয়মিত কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংসহ বিভিন্ন ফেডারেশন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। মূল তহবিল যাতে ধীরে ধীরে আরও বড় হয়, সে জন্য লভ্যাংশের ২৫ শতাংশ আবার সেখানে যোগ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, ‘সেই অর্থ দিয়ে ফুটবল, হকি, আর্চারি, শুটিংসহ নিজ নিজ খেলার নিয়মিত কার্যক্রম ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে ব্যয় করবে। লভ্যাংশের বাকি ২৫ শতাংশ আবার মূল তহবিলে পুনর্বিনিয়োগ করতে হবে।’
ফেডারেশনগুলোর মধ্যে এই অর্থ সমানভাবে ভাগ হবে না। খেলার ধরন ও ফেডারেশনের কার্যক্রমের পরিধি বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এখনো চূড়ান্ত হিসাব না হলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন প্রায় ৫০ কোটি টাকা পেতে পারে বলে জানা গেছে। হকি ফেডারেশনও বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছে। অনুমোদনের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনভিত্তিক বরাদ্দ জানাবে।
শুধু তহবিল পেলেই হবে না, নিয়মিত কার্যক্রমও নিশ্চিত করতে হবে ফেডারেশনগুলোকে। বছরে অন্তত চারটি জাতীয় প্রতিযোগিতা আয়োজনের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন বা বিদেশের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে অন্তত তিনটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে যুক্ত থাকার কথাও বলা হয়েছে।
তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার বিষয়টিও সামনে এসেছে সভায়। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দল নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি, বিদেশ সফরে অপ্রয়োজনীয় কর্মকর্তা পাঠানো এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে শুধু সাংগঠনিক শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সরাসরি দেশের প্রচলিত কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।’