আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০২৩ সালটা দুর্দান্ত কেটেছে নাজমুল হোসেন শান্তর। টি-টোয়েন্টি (২১৮) ছাড়া বাকি দুই সংস্করণে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শীর্ষ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। টেস্টের ৪৪০ রানের বিপরীতে ওয়ানডেতে তাঁর রান ছিল ৯৯২। গত বিপিএলের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন তিনি (৫১৬)। ২০২৩ সালটা শান্তর জন্য সোনার ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার এক বছর।
তিন সংস্করণে তাঁর পারফরম্যান্স, খেলাটা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতা ভাবা হচ্ছিল তাঁকে। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে ‘ট্রায়াল’ও হয়ে যায় শান্তর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি সিরিজে পরখ করে দেখার পর বিসিবি এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁর কাঁধে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন সংস্করণের অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। তিন সংস্করণের অধিনায়ক হওয়ার বেতন, প্রণোদনা মিলিয়ে এ বছরের প্রতি মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাবেন বিসিবির কাছ থেকে।
আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়ক হতেই শান্ত যেন কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন। গতবারের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের এবার আশ্চর্য নিষ্প্রভ। এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ১৩৬ রান করতে পেরেছেন। সর্বোচ্চ ৩৬। ৯০.৬৬ স্ট্রাইকরেটের বিপরীতে গড় ১২.৩৬। সর্বোচ্চ স্কোরটা করেছিলেন এবারের বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে। জাতীয় দলে শান্ত যদি আগের মতোই শুধুই খেলোয়াড় হিসেবে খেলতেন, তাঁর এই ফর্ম নিয়ে হয়তো খুব বেশি আলোচনা হতো না। আলোচনা হচ্ছে এ কারণেই, যখন তাঁকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া, ঠিক সে সময় কেন যেন ঘুমিয়ে পড়ল শান্তর ব্যাট!
ঢাকার দুই পর্বের ইনিংসগুলো হচ্ছে এমন—৩৬, ১৪, ৩৩ ও ১৮। সিলেট পর্বের অবস্থা একদম বাজে। সিলেটের পাঁচ ইনিংসে স্কোর—৫, ৫, ৯, ৩ ও ১। সিলেটে বাজে খেলার জন্য অবশ্য ভাগ্যটাকে দুষতে পারেন শান্ত। সেখানে গিয়ে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগেছিলেন। যার প্রভাব পড়েছিল শরীরে। গলাব্যথার কারণে ১০ দিনের মতো কথা বলা নিষেধ ছিল তাঁর। এতে ব্যাটের জবাবও যেন ‘জবান বন্ধের’ মতো হয়ে যায়। বাজে ছন্দ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেও বজায় ছিল। দুই ইনিংস খেলে করতে পেরেছেন ০ ও ১২।
চট্টগ্রাম পর্বের শুরুটা করেছিলেন দারুণ এক সুসংবাদে। বাংলাদেশের তিন সংস্করণে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার সংবাদটি বন্দরনগরীতে বসেই পেয়েছিলেন শান্ত। এমন খুশির সংবাদে তাঁর ব্যাট হাসবে, এমনই প্রত্যাশা ছিল দর্শকদের। আর রানের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের পিচ তো ছিলই। দেশের বেশির ভাগ ব্যাটারই রানের দেখা পেয়েছেন চট্টগ্রামে। তানজিদ হাসান তামিমই যেমন কী দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছেন চট্টগ্রামে। সেখানে নীরবতা ভাঙতেই পারলেন না শান্ত। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস অবশ্য চিন্তিত নন শান্তর ফর্ম নিয়ে। আজ সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেট এমন খেলা, একটা সিজন খারাপ যাবে পরের সিজনে আবার ভালো খেলবে। এই ওঠা-নামা থাকে, এর মানে এই না যে তার ফর্ম নেই। আজকে হয়তো দেখেন শান্ত খারাপ করছে কিন্তু সে ক্লাস প্লেয়ার। যখন আন্তর্জাতিক সিরিজ শুরু হবে তখন দেখবেন সে ফর্মে ফিরেছে।’
সেই শান্তই বিপিএলে কেমন ‘শান্ত’ হয়ে গেছেন! তাঁর বিবর্ণ ব্যাটিংয়ের প্রভাব পড়েছে দলের পারফরম্যান্সেও। সবশেষ টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ফাইনালে তুললেও এবার আগে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে দলটির। আগামীকাল খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা। দলের সঙ্গে নিজের শেষটাও যদি ভালো করেন শান্ত, মার্চে শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে কিছুটা আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি অন্তত তিনি খুঁজে পাবেন।