নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) কাছে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ৩ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে যখন ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা, তখন তাদের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পরিবর্তনের কথা শোনা গিয়েছিল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি জিম্বাবুয়েও রাজি ছিল এই ব্যাপারে।
ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে ছিল বাংলাদেশ। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটি হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ও আরেক ম্যাচের ভেন্যু ছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। এদিকে ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ের সব ম্যাচ পড়েছে শ্রীলঙ্কায়। তুলনামূলক খর্বশক্তির যেকোনো এক দল বাংলাদেশের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলে লিটন দাস-মোস্তাফিজুর রহমানরা লঙ্কায় খেলতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হলো না।
বাংলাদেশের পরিবর্তে যে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেয়েছে, তারা ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের প্রথম দিন মাঠে নেমেছে। টসের সময়ই বুলবুলের মনে পড়ল লিটনদের কথা। যাদের এই বিশ্বকাপে খেলার কথা ছিল। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেন, ‘যখন (৭ ফেব্রুয়ারি) স্কটল্যান্ড যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে টস করতে গেল, তখনই শুধু আমার মনে হয়েছে, তাহলে বাংলাদেশ খেলবে না! তার আগ পর্যন্ত সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি যাতে বাংলাদেশ এক দিনের নোটিশে হলেও যেন বিশ্বকাপ খেলতে যায়। বলে নেই যে যে দুটো দেশ আমাদের সঙ্গে গোপনে গোপনে মানে ব্যাক মিটিংয়ে সব সময় যোগাযোগ করত—আয়ারল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে। তারাও এক পর্যায়ে ক্রিকেটের স্বার্থে তারাও চেয়েছিল যাতে গ্রুপটা চেঞ্জ হয়। যাতে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে যায়। তো সেটাও হয়নি আরকি।’
লিটন-তানজিদ হাসান তামিম-মোস্তাফিজুর রহমানদের গতকালও দেখা গেছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে তাঁরা চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন। কিন্তু এ সময় তো তাঁদের মিরপুরে থাকার কথা ছিল না। ভারত-শ্রীলঙ্কাসহ যে ২০ দল খেলছে বিশ্বকাপে, সেখানে দেখা যেত বাংলাদেশকেও। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ দলকে ভারতে খেলতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার।
লিটনরা বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় মন খারাপ বুলবুলের। আজকের পত্রিকাকে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সমব্যথী, সমব্যথী এবং অ্যাজ এ ক্রিকেটার আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে আমি আবারও বলছি যে দেশ জাতি সম্মান ক্রিকেট থেকে অনেক বড় একটা ব্যাপার। এবং একটা বিশ্বকাপ বা একটা সিদ্ধান্ত সরকারের সিদ্ধান্তটা অনেক বড় করে দেখছি।’
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর দিনই (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে তড়িঘড়ি করে লাহোরের উদ্দেশে রওনা দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। পরের দিন (৮ ফেব্রুয়ারি) লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কার্যালয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। বৈঠক শেষে সমাধান বের হয় গত রাতে। বাংলাদেশ শাস্তি না পেলেও আইসিসি তাদের পাওনা টাকা দেবে বলে আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগও পাচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে যা ঘটেছে, সবই পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়েছে বলে মনে করেন বুলবুল। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘না এ ধরনের কোনো টাইমলাইন বা টাইম ফ্রেম ছিল না। পরিস্থিতি অনুযায়ী সব ঘটেছে। আমি কিন্তু চেয়েছিলাম যে... স্কটল্যান্ডকে না নেওয়ার ব্যাপারে পাকিস্তান এবং শুরুতে ভারত ও আইসিসির কিছু কর্মকর্তারা বলেছিল যে অপেক্ষা করার জন্য। কিন্তু আইসিসির তো কমার্শিয়াল ও লজিস্টিকস ব্যাপার থাকে। খেলা না হলে অনেক ক্ষতি। তো তাদের দিক থেকে তারা দেখেছে।’