‘চোকার্স’ তকমাটা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে লেগে আছে বছরের পর বছর ধরে। টুর্নামেন্ট, সংস্করণ বদলালেও নকআউট পর্বে প্রোটিয়াদের হোঁচট খাওয়ার পরিচিত দৃশ্যটা দেখা যায় বারবার। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে গতকাল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দেখা গেল একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। টানা সাত ম্যাচ জিতে সেমিতে আসা প্রোটিয়ারা স্রেফ উড়ে গেল নিউজিল্যান্ডের কাছে।
গ্রুপ পর্ব, সুপার এইটে একের পর এক ম্যাচ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখে মনে হচ্ছিল, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধরা স্বপ্ন এবার তারা পূরণ করতে যাচ্ছে। তা ছাড়া প্রোটিয়ারা কন্ডিশন সম্পর্কে ছিল ওয়াকিবহাল। গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের বিশ্বকাপে সব ম্যাচ তারা খেলেছে ভারতে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডকে খেলতে হয়েছে ভারত-শ্রীলঙ্কা মিলিয়ে। ভ্রমণঝক্কির ক্লান্তির সঙ্গে কন্ডিশনগত ভিন্নতা তো ছিলই; এমনকি সেমিতে উঠতে কিউইদের ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। কিন্তু নকআউট পর্বে বাজিমাত করেছে কিউইরা। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করামের কাছে এই হারটা থাপ্পড় খাওয়ার মতোই।
১৯ বছরের চেষ্টায় ও ষষ্ঠবারের দেখায় গত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড পেল অধরা জয়। তা-ও সেই জয়টা হয়েছে বড্ড আয়েশি। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪৩ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটে জিতে ফাইনালের টিকিট কেটেছে কিউইরা। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মার্করাম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ভীষণ হতাশ। এটা ঠিক থাপ্পড় না হলেও সে রকমই মনে হচ্ছে। আজকের (গতকাল) রাতটা আমাদের জন্য খারাপই ছিল। তবে আমাদের এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং দল হিসেবে আরও ভালো করতে হবে।’
টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ১০.২ ওভারে ৫ উইকেটে ৭৭ রানে পরিণত হয়। তখন তাদের স্কোরবোর্ডে ১৫০ রানও অনেক দূরের পথ মনে হচ্ছিল। পরে ষষ্ঠ উইকেটে মার্কো ইয়ানসেন ও ত্রিস্তান স্টাবসের ৪৮ বলে ৭৩ রানের জুটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করেছে প্রোটিয়ারা। সাত নম্বরে নামা ইয়ানসেন ৩০ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।
বর্তমান টি-টোয়েন্টিতে ১৭০ রানের লক্ষ্য আহামরি কঠিন না হলেও নকআউট পর্বের একটা চাপ তো থাকেই। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে (৬ ওভার) বিনা উইকেটে ৮৪ রান নিউজিল্যান্ড করে ফেললে গল্পটা সেখানেই অর্ধেক শেষ হয়ে যায়। ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্টর ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যায় প্রোটিয়ারা। এমনকি এজ হওয়া অনেক বলও বাউন্ডারি হয়ে যায়। ভিডিও গেমসের মতো ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে রেকর্ড সেঞ্চুরি তুলে নেন ফিন অ্যালেন। ১৩তম ওভারে ইয়ানসেনকে মিড অফ দিয়ে চার মেরে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ মারেন অ্যালেন। ম্যাচ শেষে মার্করাম বলেন, ‘মাঝপর্যায়ে আমাদের সত্যিই মনে হয়েছিল জয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তারা যেভাবে এগোতে থাকে, তাতে ম্যাচে ফেরা আমাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ফিন অ্যালেনের ইনিংস আর টিম সাইফার্টের ইনিংস ম্যাচটা দ্রুত শেষ করে দিয়েছে। তাদের অবশ্যই বড় কৃতিত্ব দিতে হবে।’
এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। সেই চার ম্যাচই হয়েছে চারটি ভিন্ন ভেন্যুতে। মিরপুরে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, অকল্যান্ডে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, লাহোরে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের পর গতকাল কলকাতায় ধরা খেল প্রোটিয়ারা।