সাক্ষাৎকার

জানি না রিপোর্টটা কীভাবে ব্যবহৃত হবে

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে কী কী এসেছে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত না জানা গেলেও তদন্ত কমিটির প্রধানের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে জানা গেল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের প্রতিক্রিয়া। গতকাল বিসিবি সভাপতির কার্যালয়ে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রানা আব্বাস

প্রশ্ন: বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান সংবাদমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন, দেখেছেন নিশ্চয়। সামগ্রিকভাবে এখন কী মনে হচ্ছে?

আমিনুল ইসলাম বুলবুল: আমরা অনেক সময় ভেবেছিলাম, তদন্ত কমিটির লেজিটিমেসি, যেহেতু ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল করেছে, এটা লেজিটিমেসির তো কোনো ব্যাপার না, তারা করতেই পারে। তারা আমাদের অন্যতম বড় অংশীদার। আমাদের দেখভাল করে, আমাদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব তাদের। সেই লক্ষ্যে আমরা অপেক্ষা করছিলাম, তদন্ত রিপোর্টে কী আসে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, একটা চলমান বোর্ড ৬ মাসের মতো হয়ে গেছে। চলমান অবস্থায় এই ধরনের তদন্ত বা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম। আমরা চেষ্টা করব সরকারের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

প্রশ্ন: সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করার কথা বললেন। বিষয়টি যদি আরেকটু খোলাসা করতেন?

বুলবুল: আমাদের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন একজন ইন্টারন্যাশনাল ফুটবলার, জাতীয় দলে খেলেছেন। সাফ জয়ী একজন গোলরক্ষক। তিনি খুব ভালো করে জানেন, খেলোয়াড়দের প্রয়োজনটা কী। আমাদের প্রতিমন্ত্রীর যে মুভমেন্টগুলো দেখছি, সবই খেলোয়াড়কেন্দ্রিক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমাদের দাওয়াত দিয়েছিল এবং আমরা গিয়েছি। অভিভূত হয়েছি ক্রীড়া কার্ডের বিষয়টি দেখে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খেলোয়াড়দের দিকে লক্ষ রাখছেন। আমরা ক্রীড়াবান্ধব মন্ত্রিপরিষদ পেয়েছি। মন্ত্রী পেয়েছি। ক্রীড়াবান্ধব একটা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, আমরা একসঙ্গে কাজ করে খেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। ক্রিকেট এখানে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। ক্রিকেটকে শুধু হাই পারফরম্যান্স পর্যায়ে রাখতে চাচ্ছি না, আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্রিকেটকে নিয়ে যেতে চাই এবং ক্রিকেটের ভ্যালুস দিয়ে আমরা দেশ গড়তে চাই। এটা প্রতীয়মান হয়েছে যে একজন ক্রিকেট স্টার বা ক্রিকেটের যে টুলস আছে, সেগুলো দিয়ে ভালো নাগরিক তৈরি করতে চাই। এটা অনেকবার আমি বলেছি এবং আবারও বলছি।

প্রশ্ন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, আইসিসিতে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাবেন। প্রতিবেদন আইসিসিতে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

বুলবুল: ঠিক জানি না এই তদন্ত রিপোর্টটা কীভাবে ব্যবহৃত হবে। এখনো এটার প্রকৃত আউটকাম শুনিনি। ক্রীড়া পরিষদ হচ্ছে দেশের সব খেলার অভিভাবক। নির্বাচনসংক্রান্ত আরও ক্রীড়া সংস্থা আছে। আগে অনেক কিছু হয়েছে। তো সবকিছুরই (তদন্ত) হওয়া উচিত।

প্রশ্ন: তদন্ত কমিটির প্রধান বলেছেন, তাঁরা কাউকে অভিযুক্ত করেননি, তবে ভবিষ্যতে নির্বাচন সুন্দর করতে কিছু সুপারিশ করেছেন। গঠনতন্ত্র সংশোধনের ব্যাপারটাও আছে। আপনাদের কি মনে হয়, বর্তমান যে গঠনতন্ত্রের ওপর বিসিবি চলছে, সেটা দ্রুতই সংশোধন করা উচিত?

বুলবুল: এটা আমাদের বোর্ডে অনেকবার আলোচনা হয়েছে। এটা করা হয়েছিল অনেক দিন আগে। আমরা যখন বোর্ডে আসি, তখন সেটার মেয়াদ মাত্র ৪ মাস ছিল। বর্তমান মেয়াদ প্রায় ৬ মাস হলো। আমরা নানা কারণে সেটেল হতে পারছি না। আমরা উপলব্ধি করছি, এই গঠনতন্ত্রে হাত দেওয়া উচিত। ক্রিকেটের স্বার্থে যেমন একটা ছোট উদাহরণ দিই, বাংলাদেশে ক্লাবের খুব বড় একটা অবদান আছে। কিন্তু ক্লাবের এই কাউন্সিলরশিপ পেতে কী মাত্রায় পাতানো খেলা হয়েছে, কীভাবে আম্পায়ার ফিক্সিং করা হয়েছে, কীভাবে ১ ওভারে ৯০ রান দেওয়া হয়েছে—এসবের মূলে ছিল এই কাউন্সিলরশিপ পাওয়া। এটা সুস্থ প্রতিযোগিতা নয়। দেশব্যাপী

বাংলাদেশের ক্রিকেটের ডিরেক্টরদের যে ভূমিকা আছে, সুষ্ঠু বণ্টন হওয়া উচিত। তবে আমাদের ক্রিকেটে ক্লাবের যে অবদান আছে, বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগের যে ক্লাবগুলো আছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের আরও আলোচনা করা উচিত।

প্রশ্ন: ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তো একটা অচলাবস্থা চলছে। ক্রিকেটাররা বলছেন, তাঁরা রাজনীতির শিকার হতে চান না, তাঁরা মাঠে ফিরতে চান, ক্ষমতার লড়াইয়ের কাছে জিম্মি হতে চান না। এটার সমাধানে কোন পথে হাঁটছেন?

বুলবুল: আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে ক্রিকেট খেলা চালানো এবং এই প্রিমিয়ার ক্রিকেট হচ্ছে আমাদের ৫০ ওভারের একমাত্র বড় ইভেন্ট। এবং এই ‘লিস্ট এ’ ইভেন্টের জন্য আমাদের যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে, মিস-আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে—এগুলো ভুলে আমাদের এই খেলাটার দিকে আগে মনোযোগ দেওয়া উচিত। খেলোয়াড়েরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। একটা হাই পারফর্মিং এনভায়রনমেন্ট তৈরি করাটাও খুব জরুরি। এরই মধ্যে দেরি হয়ে গেছে। আমরা ৮ তারিখে (পরশু) একটা মিটিং ডেকেছি। আশা করব প্রতিটি ক্লাব সেখানে আসবে এবং তারা এই লিগটা খেলবে। আমাদের পক্ষ থেকে যে ধরনের অনুদান

দেওয়ার পরিকল্পনা আছে, আমাদের যে কাজগুলো আছে, সেগুলো আমরা করে বসে আছি। প্লেয়াররা রেডি। শুধু আমরা ক্লাবের জন্য অপেক্ষা করছি। ইনশা আল্লাহ ৮ তারিখে এর একটা ফয়সালা হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: বোর্ড থেকে এখন পর্যন্ত সাত পরিচালক পদত্যাগ করেছন। তাঁদের শূন্য জায়গাগুলো নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?

বুলবুল: আমাদের গঠনতন্ত্র দেখেন, এটা আমাদের বোর্ডে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গঠনতন্ত্র কী বলে, সেটা আমাদের অনুসরণ করতে হবে। যে সাতজন পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ যে তাঁরা যত দিন ছিলেন, সর্বোচ্চ অবদান রেখেছন। প্রত্যেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন এবং আশা করব, তাঁদের ব্যক্তিগত যে সমস্যাগুলো আছে, তাঁরা সেগুলো কাটিয়ে উঠবেন। কীভাবে এই সাতটা জায়গা পূরণ করা যায়, সেটার যে প্রক্রিয়া আছে গঠনতন্ত্রে, সেটা আমরা অনুসরণ করে খুব তাড়াতাড়ি এগিয়ে যাব। যাঁরা চলে গেছেন, অবশ্যই ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের সঙ্গে আলাপ করব যে কীভাবে আমরা তাঁদের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারি। কিছু কনসালট্যান্সি ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নিতে হব। আশা করব, তাঁরা আমাদের এ ব্যাপারে সহায়তা করবেন।

প্রশ্ন: ক্রিকেটের বাইরের বিষয় নিয়ে এত আলোচনা, মাঠের ক্রিকেট যেন বেশ আড়াল হয়ে যাচ্ছে। বিকেলে অনেকক্ষণ মাঠে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বললেন। তাঁদের সঙ্গে কী আলোচনা হলো?

বুলবুল: কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসার কথা ছিল। আলাদাভাবে অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছি। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছি, তাদের প্ল্যানগুলো কী। তারা কীভাবে কাজ করছে, তাদের কীভাবে আমরা আরও বেশি ফ্যাসিলিটেট করতে পারব। এখন বিসিবি প্রেসিডেন্ট হলেও আমি কিন্তু কোচ এবং আমি লেভেল থ্রি মাস্টার, টিউটর। তো আমি তাদের সাইকোলজির ব্যাপারটা নিয়ে বেশি কাজ করেছি এবং কথা বলার চেষ্টা করেছি, জানতে চেয়েছি সাইকোলজিক্যালি তারা কোথায় আছে। আপনারা শুনে অভিভূত হবেন যে আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি উইথ দেয়ার মেন্টাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং। এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট যে এগিয়ে যাচ্ছে, তার প্রমাণ হচ্ছে, আমাদের এই খেলোয়াড়দের পরিণত উত্তরগুলো। আমি নিয়মিত এটা করতে চাই।

১৬ লাখ টাকার স্পিন বোলিং মেশিন কী কাজে লাগাবে বিসিবি

‘রেফারির ১০ বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুবিধা পেয়েছে বার্সেলোনা’

কাঁথা-বালিশ নিয়ে মাঠেই ঘুমাতে চান অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার, কারণ কী

সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে তো ভারত

‘শিগগিরই পিএসএল বিশ্বের এক নম্বর লিগ হবে’

সাফজয়ী রোনান-মিঠুদের ১ লাখ টাকা করে দিল সরকার

সাফ খেলতে ভারতে যাবে না পাকিস্তান

বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রেখে এশিয়ান গেমসে উজবেকিস্তান

পিএসএলে রিশাদরা কি আজ হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারবেন

ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে বিসিবি সভাপতির