ধনকুবের এবং যৌন পাচারের দায়ে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে এখন সারা দুনিয়ায় তোলপাড় চলছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে শিশুকামিতা, কিশোরী পাচার, রাজনীতি ও কূটনীতি। তবে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছিল আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, এপস্টেইন জিন প্রকৌশল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মানুষের এক উন্নততর ‘সুপার-রেস’ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইন নিউ মেক্সিকোতে তাঁর সুবিশাল ‘জোরো র্যাঞ্চ’-এ এক ভয়াবহ পরীক্ষা চালানোর স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল নিজের বীর্য বা ডিএনএ ব্যবহার করে একবারে অন্তত ২০ জন নারীকে গর্ভবতী করা। এর মাধ্যমে তিনি মানবজাতির মধ্যে নিজের ডিএনএ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এই নিউ মেক্সিকোর খামারবাড়িতেই অতীতে নাবালিকাসহ বহু নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে।
এপস্টেইনের এই অদ্ভুত দর্শনকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্রান্সহিউম্যানিজম’ বলা হয়। তবে অনেকে এটিকে নাৎসি আমলের ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবিদ্যার আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখেন। এপস্টেইন এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়ে তিনি বহু প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করেছিলেন। স্টিফেন হকিংয়ের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীও এপস্টেইনের আয়োজিত বিভিন্ন নৈশভোজ বা কনফারেন্সে উপস্থিত থাকতেন। হার্ভার্ডের বিবর্তন গতিবিদ্যা কর্মসূচিতে এপস্টেইন প্রায় ৬৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১১ সালে ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রান্সহিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ ২০ হাজার ডলার দান করেছিলেন।
তবে সব বিজ্ঞানীই যে তাঁকে গুরুত্ব দিতেন তা নয়। হার্ভার্ডের জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানী স্টিভেন পিঙ্কার এপস্টেইনকে একজন ‘চতুর প্রতারক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এপস্টেইন বিজ্ঞানের কোনো গভীরে না গিয়ে কেবল চটুল তর্কে লিপ্ত থাকতেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জনক জ্যারন ল্যানিয়ার জানিয়েছেন, এপস্টেইনের ধারণাগুলোকে কোনোভাবেই গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করার মতো বিজ্ঞান বলা চলে না।
এপস্টেইনের আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটস এই পরিকল্পনার কথা শুনে নিজেই আতঙ্কিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ১৯৩০-এর দশকে নাৎসিদের ইউজেনিক্স ব্যবহারের ভয়াবহ স্মৃতির পর এমন জেনেটিক ম্যানিপুলেশন নিয়ে এপস্টেইনের আগ্রহ রীতিমতো ন্যক্কারজনক।
২০১৯ সালের ৬ জুলাই নাবালিকা পাচার ও যৌন শোষণের অভিযোগে গ্রেফতার হন জেফরি এপস্টেইন। পরে কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ সেটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিলেও এ নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে।