কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নথিপত্র থেকে এবার সামনে এলো ডিএনএ-র গঠনের সহ-আবিষ্কারক নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসনের নাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে, এপস্টেইনের নিউইয়র্ক ম্যানশনে তিন তরুণীর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় রয়েছেন এই বিজ্ঞানী।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা ওয়াটসনের এই ছবিগুলো ঠিক কবে তোলা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ছবিগুলো ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি বা শেষদিকের। উল্লেখ্য, এই সময়ের অনেক আগেই এপস্টেইন শিশু-যৌন অপরাধের দায়ে জেল খেটে বেরিয়েছিলেন। একটি ছবিতে ওয়াটসনকে ক্যানসার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিষয়ে তাঁর লেখা একটি গবেষণাপত্র হাতে এক তরুণীর পাশে দেখা গেছে।
১৯৬২ সালে ডিএনএ-র ‘ডাবল হেলিক্স’ কাঠামো আবিষ্কারের জন্য নোবেল জয় করা ওয়াটসন পরবর্তী জীবনে তাঁর বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য বিজ্ঞান সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। মেধার সঙ্গে গায়ের রঙের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কিত দাবির কারণে ২০১৯ সালে তাঁর সম্মানসূচক খেতাবগুলো কেড়ে নেওয়া হয়।
আশ্চর্যজনকভাবে, এপস্টেইন ওয়াটসনের এই বিতর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালে বিখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কির সঙ্গে এক ই-মেল আদান-প্রদানে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, আফ্রিকান-আমেরিকানদের বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষার ফলাফল বা ‘স্কোর গ্যাপ’ একটি স্বীকৃত বিষয়। তিনি লিখেছিলেন, জেমস ওয়াটসন তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার কারণেই সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এপস্টেইনের বাড়িতে ওয়াটসনের উপস্থিতিতে কোনো ধরনের ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’র প্রমাণ মেলেনি। তবে এই ছবিগুলো প্রমাণ করে, বিজ্ঞান, ব্যবসা ও রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে এপস্টেইন কতটা সচেষ্ট ছিলেন।
উদ্ধারকৃত নথিতে ওয়াটসন ও এপস্টেইনের মধ্যে ডজনখানেক ই-মেল আদান-প্রদানের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে প্রাতরাশ ও নৈশভোজের আলোচনার পাশাপাশি জিনবিদ্যা নিয়ে নানা আলোচনা দেখা যায়। এমনকি ২০১৪ সালে এপস্টেইন ওয়াটসনের আত্মজীবনী ‘জিনস, গার্লস অ্যান্ড গ্যামো’ বইটি কিনেছিলেন বলেও জানা গেছে।
সিলিকন ভ্যালির মুঘল থেকে শুরু করে ওয়াল স্ট্রিটের অর্থলগ্নিকারী—জেফরি এপস্টেইনের নথিপত্র যত উন্মোচিত হচ্ছে, ততই বিশ্বের প্রভাবশালী পুরুষদের নাম একের পর এক সামনে আসছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এই বিষয়ে তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।