হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ওই মাদ্রাসার মহাপরিচালক।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকালে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে আসিফ মাহমুদ হেফাজতে ইসলামের আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের শহীদদের স্বীকৃতি এবং অনুদান দেওয়ায় আসিফ মাহমুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হেফাজতে ইসলামের আমির। সাক্ষাৎ শেষে আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আসিফ মাহমুদের সাফল্য কামনা করে দোয়া করেন তিনি।
জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও শুভকামনা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে দোয়া করেন এবং নিজের লেখা একটি বই উপহার দেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি মূলত ব্যক্তিগতভাবে দোয়া নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছেন। এর আগে এই মাদ্রাসায় আসা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে এসে শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে দেখে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি শিগগিরই দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শনের কথাও জানান।
নির্বাচনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেই বিষয়েও দোয়া নেওয়া এই সফরের একটি উদ্দেশ্য ছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, দলকে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে কাজ চলছে এবং নতুন অনেকেই দলে যুক্ত হচ্ছেন।
এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় জানান, চট্টগ্রামে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এনসিপি মুখপাত্র হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।