আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণে ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা উত্তরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন।
আজ রোববার সন্ধ্যায় দলের আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন। রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সার্বিক দিক নির্দেশনা দেন নাহিদ ইসলাম। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ড ভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ততা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের এনসিপি সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থী দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে, গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে এবং উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রাথমিকভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল এনসিপি। পরবর্তীতে গত সোমবার আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাদের ভোটদানের এলাকা পরিবর্তনের কথা জানান। সংসদ নির্বাচনে যেকোনো আসনে ভোটার হলেই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার হতে হয়।
স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২ সেপ্টেম্বর ভোটার স্থানান্তরে ৫ দিন সময় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ ছিল। সে সময় আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ধানমন্ডি এলাকা থেকে উত্তরের আফতাবনগর এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তরা থেকে ঠিকানা বদলে দক্ষিণে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হন।
সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কারণ সে সময় তিনি ওই এলাকার ভোটার ছিলেন না। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সংসদ নির্বাচনের আগেই কুমিল্লা থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হয়েছিলেন। তবে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।