ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের অনুমোদিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে তাঁরা সংবিধান সংস্কার করতে চান। কিন্তু সরকার সেটিকে উপেক্ষা করে ‘কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর আদলে’ আবারও সবকিছু সাজাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার চায় না যে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কারে অংশগ্রহণ করুক। ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কারপ্রক্রিয়া থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
পরওয়ার আরও বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য হলো আজীবন ক্ষমতায় থাকা, যা ফ্যাসিবাদী চিন্তার একটি সর্বনাশা পদক্ষেপ। আমরা এই সর্বনাশা চিন্তা থেকে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে ফেরানোর চেষ্টা করব।’ এই বিতর্ক রাজপথে ঠেলে না দিয়ে সংসদে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে গণভোটে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে সরকার বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
সারা দেশে সার বিতরণ ও সারের ডিলার নিয়োগে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
পরওয়ার বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে।
পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা, ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি, কালোবাজারে সার বিক্রি এবং চোরাচালানের কারণে দেশে সারসংকট হচ্ছে। ডিলার নিয়োগে শর্ত মানা হয়নি। কিছু এলাকায় দলীয় প্যাডে তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো আমলে নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টাকা নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দিনাজপুর, রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ডিলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সরকারের কোনো মন্ত্রীই নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না। ফলে এখন ‘সবার আগে বিএনপি’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়। হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে সব ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সারের ডিলার নিয়োগ ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। দাবিগুলো হলো—সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও লাইসেন্স দেওয়ার ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সারসংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য ও দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে যে অসংগতি রয়েছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করতে হবে। ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে, ভিত্তিহীন অভিযোগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে দায়ী করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অনেকে।