৮ আগস্টকে ‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’। আজ শনিবার এক সংবাদ বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, দুই বছর আগে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছালেও রাষ্ট্রের পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামো বহাল থাকায় কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ঘটেনি।
সংগঠনটির দাবি, অভ্যুত্থানের পর গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে ৬টির সুপারিশ নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হলেও শ্রম, নারী, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ আলোচনার বাইরে রয়েছে। ফলে শ্রমিক, নারী, স্বাস্থ্যসেবা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে।
গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত পুরোনো পুলিশ কাঠামোর হাতে রাখারও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। তারা এসব ঘটনার তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাঠামোর হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও ওষুধ খাতের সংকটের কথাও তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রভাব এসব খাতে পড়ছে। যেকোনো বেসরকারীকরণ বা মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে প্রকাশ এবং জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে তারা।
গণবিপ্লবী উদ্যোগের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাঁচটি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত আলোচনায় আনা, বাতিল হওয়া অধ্যাদেশের তালিকা ও কারণ প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় অপরাধের স্বাধীন তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্য পুনর্গঠন করে একটি জনমুখী রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।