হোম > রাজনীতি

গণতন্ত্রের চর্চা থাকলে স্বৈরশক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে না: রিজভী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

গণতন্ত্র অর্জনের সংগ্রামে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘এই দিবসের গুরুত্ব মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সেবা ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয়। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাকলে কোনো স্বৈরশক্তিই মাথাচাড়া দিতে পারে না, আর-সে কারণে জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা সম্ভব হয় না।’

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে একদলীয় দুঃশাসনের কালো থাবা এখনো বিরাজমান। দেড় দশক ধরে বাংলাদেশেও নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার উচ্ছেদ করে এক ভয়ংকর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, ভিন্নমতের কারণে অনেকেই গুম, খুন, আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছিল।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য আপসহীন যোদ্ধা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ওপর নামিয়ে আনা হয়েছিল মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার বর্বরোচিত অত্যাচার।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশবাসী ১৬ বছর এক ভয়াবহ দুর্দিন অতিক্রম করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঐতিহাসিক রক্তস্নাত আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর এখন এ দেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে গণতন্ত্রকে একটি স্থায়ী রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্রকে সচল রাখতে হলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারী ও পুরুষ অথবা অন্য কোনো লিঙ্গে সবার সমান অংশগ্রহণ এবং সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা লাভ করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-সমাজে। গণতন্ত্র লিঙ্গ ভেদে কারও প্রতি কোনো বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে না, বরং সবার জন্য সমান আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, আমরা দুঃসময় কাটিয়ে উঠে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সার্বিক প্রচেষ্টায় আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।