সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেছেন, ‘শফি আহমেদ ছিলেন আপা-ম্যাডামের পছন্দের বাইরে গড়ে ওঠা একজন শক্তিশালী ছাত্রনেতা। নিজের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে তিনি নেতৃত্বে এসেছিলেন।’
জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি ছাত্রনেতা শফি আহমেদের স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন নাজমুল হক প্রধান। ‘৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে এ সভার আয়োজন করা হয়।
নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতির ধারায় কেউ কেউ আপার পছন্দের নেতা, আবার কেউ কেউ ম্যাডামের পছন্দের নেতা। আমরা এর বাইরে যারা নেতা হয়েছি, নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে হয়েছি। শফি আহমেদ আপার বা ম্যাডামের পছন্দের বাইরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে শক্তিশালী ছাত্রনেতা ছিলেন।’
সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশে আন্দোলন-সংগ্রাম ও ক্ষমতার পটপরিবর্তন নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনে নেতৃত্বের ধরন কিছুটা ভিন্ন ছিল। আন্দোলনের সময় অনেকে হঠাৎ সামনে এসে নেতৃত্বের দাবিদার হয়েছেন, যদিও এর আগে তাঁরা আড়ালে ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম জিন্নাহর নামে করার দাবির সমালোচনা করে নাজমুল হক প্রধান বলেন, জিন্নাহ পাকিস্তান সৃষ্টির নেতৃত্ব দিলেও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধ ছিল। বিশেষ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির বিপরীতে তাঁর অবস্থান ইতিহাসে স্পষ্ট।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. মাসুম প্রমুখ।