ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে সংসদে। কিন্তু কিছু অধ্যাদেশের বিষয়ে সরকারি দলের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম গতকাল শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মানবাধিকার, গুমপ্রতিরোধ ও গণভোট অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ জুলাই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেশি জড়িত, সেগুলো পাস করা হলো না। এসব অধ্যাদেশ ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল, এগুলো কার্যকর হলে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠা যেত না। এ জন্য সরকার এসব বিল পাস করেনি। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় তো বিএনপির ৩১ দফাতেই ছিল, ওটা কেন বাদ গেল?’
সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা মোটাদাগে অপূর্ণই থেকে গেছে।’
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিশেষ কমিটির সুপারিশে বিল তৈরিতে গোপনীয়তা বজায় রাখে সরকারি দল। এ ছাড়াও সব বিল বা অধ্যাদেশ সংসদে না এনে সরকার কেবল নিজেদের পছন্দমতো বেছে বেছে কিছু বিল নিয়ে এসেছে। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিলের কাগজপত্র পর্যাপ্ত সময় আগে দেওয়ার কথা থাকলেও, বিল পাসের মাত্র ৫-১০ মিনিট আগে সদস্যদের টেবিলে কাগজ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিল পড়ে দেখার বা গঠনমূলক মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
গত শুক্রবার ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’টি পাসের জন্য সংশোধনীসহ উত্থাপন করে সরকারি দল। কথা ছিল এই অধ্যাদেশটি হুবহু পাস করা হবে। কাজেই সংশোধনী নিয়ে আপত্তি তোলে জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে সরকারি দলের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের পর অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।
পরে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বহাল থাকবে ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা যাবে—বিএনপি সরকার কেবল এমন বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করছে।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, দুদক, পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম কমিশন, পিএসসি, গণভোট অধ্যাদেশ—এগুলোর সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের ভাগ্য, নিরাপত্তা জড়িত। এগুলো দিয়ে অতীতে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে, দফায় দফায় বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ তাঁরা আনবেন না। তাঁরা আনবেন যেগুলোতে ফ্যাসিবাদ বহাল থাকবে, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করা যাবে—সেগুলো।
জানতে চাইলে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন গতকাল বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের যে প্রত্যাশা ছিল—বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসা, সে জিনিসটা হচ্ছে না। এখন ভবিষ্যতে উনারা কী করবেন? এ সম্পর্কে শুধু একটা কথাই বলতে পারি—বর্তমানটাই করলেন না, কাজেই ভবিষ্যতে আর কী করবেন? আমি তো কোনো আশাবাদ দেখছি না।’