বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা এবং মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এবং পরিচালক এমিলি অ্যাশবি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন দলের যুক্তরাষ্ট্র মুখপাত্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান।
আজ শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার তিনি জানান, গত সপ্তাহে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বাংলাদেশের পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রদূতের এই ব্যক্তিগত ও বিশেষ উদ্যোগের জন্য ডা. শফিকুর রহমান তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত মানবসৃষ্ট (ম্যানমেড) ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ১০০ শতাংশ বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবকে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ ফর্মুলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতও সরাসরি উপকৃত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন: বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-এর তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সমর্থনের কথা শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হলে তা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দ্রুত সম্প্রসারণে এক অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
বৈঠকের শেষে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে সশরীরে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।