ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির দুই দশকেরও বেশি সময় পরও ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা। সংগঠনটি অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্য, তৎকালীন শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্য অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান সংগঠনটির ঢাবি শাখার আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ জিহাদ ও সদস্যসচিব জুবায়ের হাসিব।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ২০০২ সালের ২৩ জুলাই শামসুন্নাহার হলে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত পুলিশি অভিযান, হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করে আবাসিক হলে পুলিশি অভিযান পরিচালনা এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নারীর মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত ছিল।
তাঁরা বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির পূর্ণাঙ্গ বিচার আজও নিশ্চিত হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রমাণ করেছে, ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এর ফলে শিক্ষাঙ্গনে দমন-পীড়নের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
ছাত্রপক্ষ দাবি জানায়, শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির ঘটনায় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও ক্যাম্পাস চার্টার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইতিহাসকে ধামাচাপা দিয়ে নয়, সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দাবি অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদ করতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় হলে প্রবেশ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা, শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তীকালে এটি ‘শামসুন্নাহার হল ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।