ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বিকেলে হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই বহিরাগতের অবস্থানকে ঘিরে ওঠা সমকামিতার অভিযোগের তদন্ত চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষই নিজেদের নেতা-কর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। দুই সংগঠনের নেতারাই দাবি করেছেন, তাঁদের কয়েকজন করে কর্মী আহত হয়েছেন।
তবে কারা প্রথম হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়েও একে অপরকে দোষারোপ করছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই বহিরাগতের বিরুদ্ধে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির বৈঠক প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে চলাকালে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে হাতাহাতি শুরু হয়।
শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির আহ্বানে তিনি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ে যান। বৈঠক চলার সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে প্রবেশ করেন। পরে হাউস টিউটরেরা উপস্থিত ব্যক্তিদের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বললে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তৌকিরের অভিযোগ, প্রাধ্যক্ষ কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ছবি তোলার অভিযোগ তুলে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে মারধর করা হয়। এরপর হল সংসদের নেতারা প্রাধ্যক্ষের কক্ষে গেলে সেখানে ভিডিও ধারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও হামলা হয়। ঘটনার সময় একাধিক হাউস টিউটর উপস্থিত থাকলেও তাঁরা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা প্রাধ্যক্ষ স্যারের রুমের সামনে দেখি, ছাত্রশিবিরের বাহিনী কক্ষ ঘিরে রেখেছে। পরে আমরা স্যারের রুমে গেলে শিবির আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
মোছাদ্দিক আরও বলেন, ‘এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুনাফিকের মতো বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদল কর্তৃক হামলা হয়েছে বলে তারা প্রচার করছে। অথচ তারাই প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেছে। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’
ছাত্রদলের হল শাখার নেতা মোছাদ্দিকের অভিযোগ, এজিএসের কক্ষে ওঠা অভিযোগের তদন্ত নিয়ে ছাত্রশিবির তথ্য গোপন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রক্ষার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন রাতে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম পাঠাই। শহীদুল্লাহ হলের পরিবেশ বর্তমানে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদের টিম কাজ করছে।’
অন্যদিকে সংঘর্ষের পর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির—উভয় পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়, শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা পদত্যাগ করেছেন।
তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তিনি (প্রাধ্যক্ষ) এখনো পদত্যাগ করেননি।