হোম > রাজনীতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগপ্রক্রিয়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার: এনপিএ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মতো অত্যন্ত রাষ্ট্রীয়-সংবেদনশীল, কুশলী ও বিশেষায়িত দক্ষতা নির্ভর পদে যে প্রক্রিয়ায় কর্মরত গভর্নরকে সরিয়ে একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী ও রাজনীতিককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাতে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের অর্থনীতিতে মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যনির্ভর রাষ্ট্রীয় একটি সংস্থা তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যনির্ভর সরকারের আর্থিক খাতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের চেষ্টা করে। এ কারণেই দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।  

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক একের পর এক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দিয়েছে। সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে দলীয় লোক বসিয়ে নামে-বেনামে ঋণের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এর ফলে অনেক গ্রাহক নিজেদের আমানত ফেরত পেতে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

এই সময়ে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বড় অংশের ঋণ গুটিকয়েক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি করে এবং বাজারব্যবস্থায় অস্বাভাবিক প্রভাব সৃষ্টি করে। আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির আড়ালে ট্রেড-বেজড মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও সামনে আসে। এমনকি রিজার্ভ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়ার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঋণ ও আমানতের সুদসীমা নির্ধারণ করা হয়। করোনাকালে প্রণোদনার নামে এবং বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের অর্থ থেকেও সুবিধা নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে সরকারকে সহায়তার জন্য অর্থ ছাপিয়ে দিতে থাকে, যা বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ায়। রাজনৈতিক সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত সরকারের আজ্ঞাবহ গভর্নরের অধীনে এসব অনিয়ম প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি, বরং এসব অনিয়মে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।  

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা এবং একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘ মেয়াদে এতে সরকারও বড় ধরনের ঝুঁকি ও বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হতে পারবে। আর এ কারণেই দেশের স্বার্থে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা নিশ্চিত করা আবশ্যক।  

কিন্তু গতকাল (বুধবার) যে প্রক্রিয়ায় ভূতপূর্ব গভর্নরকে মেয়াদ সমাপ্তির আগেই তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা ভবিষ্যতে কোনো যোগ্য ব্যক্তির এ পদে যোগ দেওয়ার চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি নবনিযুক্ত গভর্নর তাঁর ব্যবসার রপ্তানি আয়ের মূল্য সময়মতো প্রত্যাবাসনে নিয়মিতভাবে ব্যর্থ হতেন এবং সম্প্রতি বিশেষ নীতি-সুবিধার আওতায় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজেকে অবমুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে গভর্নর পদে নিয়োগ নৈতিকতার মানদণ্ডে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তাঁর এ নিয়োগ স্বার্থসংঘাত সৃষ্টির সমূহ আশঙ্কা তৈরি করে।  

একজন গভর্নর অর্থনীতির সব স্টেকহোল্ডারের স্বার্থ যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা। গভর্নরের অন্যতম দায়িত্ব অর্থনীতিকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীস্বার্থ থেকে রক্ষা করা এবং এ কাজে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণভিত্তিক পলিসি নির্ধারণকে প্রাধান্য দেওয়া। অথচ নতুন গভর্নর দায়িত্ব পেয়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে অবজ্ঞা করে ‘সুদহার কমিয়ে আনার’ যে ঘোষণা প্রদান করলেন, তা সুস্পষ্টতই তিনি গভর্নর হওয়ার পূর্বে যে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতেন, সেই গোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।  

কেন্দ্রীয় ব্যাংকিংয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল, কুশলী ও বিশেষায়িত দক্ষতানির্ভর প্রতিষ্ঠান, যেখানে দেশের অর্থনীতির বর্তমান ও আগামী দিনের ভাগ্য বহুলাংশে নির্ধারিত হয়, সেখানে ব্যাংকিং ও অর্থনীতিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির পদায়ন আবশ্যক। অর্থনীতির চলমান সংকট উত্তরণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের স্বার্থে যে রকম অভিজ্ঞ এবং দক্ষ গভর্নর নিয়োগের প্রয়োজন ছিল, তার বিবেচনায় বর্তমান গভর্নরের নিয়োগ প্রশ্নসাপেক্ষ। এ ছাড়া নতুন গভর্নরের নিয়োগের ফলে পাঁচ ব্যাংকের চলমান একীভূতকরণ কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে আমানতকারীদের আমানত ফেরত প্রাপ্তি পুনরায় জটিলতার মুখে পড়ার পাশাপাশি উক্ত প্রক্রিয়ায় গোষ্ঠীস্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে পরিণতির দিকে এগিয়ে নিতে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনের প্রক্রিয়ায় এনপিএ বিশ্বাস করে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণমূলক হওয়ার পাশাপাশি এদের মধ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা আবশ্যক। এই পরিপ্রেক্ষিতে এনপিএ অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করছে:

১। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড, গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রক্রিয়া বন্ধ করে একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।  

২। নিয়োগের পরে মেয়াদ সমাপ্তির আগে সরকারের খেয়ালখুশিমতো নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা রদ করে, শুধু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের নিকট এই ক্ষমতা অর্পণ করতে হবে।  

৩। জাতীয় সংসদের নিকট গভর্নরের নিয়মিত জবাবদিহি করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে ইফতার

ছাত্রদের দাবির তোয়াক্কা না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে: নাহিদ

অবশেষে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কে তিনি

অভিজ্ঞতাহীন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দিয়ে আর্থিক খাতে অরাজকতার সূচনা হলো: ইসলামী আন্দোলন

ঋণ পুনঃ তফসিলের সুবিধাভোগীকে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক করলে প্রশ্ন উঠবেই: জামায়াত

বুয়েটে রাজনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ আবরার ফাহাদের ভাইয়ের, ব্যাখ্যা দিলেন নাসীরুদ্দীন

আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল সরকার: নাহিদ ইসলাম

গণভোট হলো জুলাই সনদের সর্বোচ্চ বৈধতা: বদিউল আলম মজুমদার

ভোটে হারানোর কায়দাগুলো চিনে নিয়েছি: জামায়াত আমির

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের