হোম > রাজনীতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

ইসলামী আন্দোলনের এমপি ভোট দিলেও দেড় ঘণ্টা পর দলের ভোট না দেওয়ার ঘোষণা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য অলি উল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তবে তাঁর ভোট প্রদানের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাঁর দল বলেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় নির্বাচনে ভোট দেবেন না তাঁরা।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ভোট দেন অলি উল্লাহ। এরপর বিকেল তিনটা ৫১ মিনিটে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।

বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

গাজী আতাউর বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও নোট অব ডিসেন্ট ছিল না।’ তিনি বলেন, তাঁরা প্রত্যাশা করেছিলেন জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতি মেনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সেটি না হওয়ায় এই নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তাঁরা সমীচীন মনে করছেন না।

গাজী আতাউর রহমান উল্লেখ করেন, জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলোর আছে—রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয়কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এই ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোটদান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সকল ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন—এ বিষয়ে বিএনপিসহ সকলেই একমত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন গাজী আতাউর। তিনি বলেন, ‘দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া এই দুইটি বিষয়ের কোনোটিই মানা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারী ছাড়া আর কিছু না।’

যে নীতি ও আইনে নির্বাচন হচ্ছে তাকে কি আদৌও নির্বাচন বলা যায় বা এর কোনো প্রয়োজন কি আদতেই আছে—প্রশ্ন রাখেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন তা নিশ্চিত হয়েই আছে। তাহলে এতসব নাটক মঞ্চস্থ করার কি অর্থ আছে? বিএনপি চেয়ারম্যান যাঁর নাম ঘোষণা করবেন তাঁকেই বঙ্গভবনে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিলেই হতো।’

গাজী আতাউর বলেন, ‘এগুলো জনগণের টাকা নষ্ট ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করা ছাড়া আর কিছু না।’ তাঁরা বিষয়টির নিন্দা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুসারে জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুনভাবে আয়োজন করার আহ্বান জানান।