দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকারি-বেসরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন, প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আপসের অনেক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে অনেক লোভ-টোপ দেওয়া হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত এগুলো ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বলেছি, গণভোট আপনারা চাইলেন, আমরা চাইলাম। এখন আপনারা মানেন না। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায় আছি। আমরা এখান থেকে সরতে পারব না।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা জনগণের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেননি। এখনো সময় আছে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক পথে ফিরে আসুন।’
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, তাঁদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। কেন ভয় করব? আমাদের নেতৃবৃন্দ ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না। আমরা সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা মনে করি, প্রতি মুহূর্তে ফাঁসির মঞ্চের ওপরই আছি।’
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে। সরকারি-বেসরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন, প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিকদের সরিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটি কি নতুন ধরনের কোটা নয়? যোগ্য ও সৎ মানুষদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে। যেন একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কায়েম করা যায়।’
শফিকুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে যখন অনেক রাজনৈতিক দল এটিকে কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বলে দূরত্ব বজায় রাখে, তখন জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও তারা কখনো এর কৃতিত্বের দাবি করেননি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বলিনি আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী) আমরা। কিংবা আমাদের এত শহীদ হয়েছে বলে কোনো কৃতিত্ব দাবি করিনি। আমরা নির্বাচনও দাবি করিনি। বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’
বিচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না। কিন্তু বিচারটা কি পাব না? শুধু কারও বাবার বিচার, নিজের বিচার, মায়ের বিচার, বোনের বিচার, ভাইয়ের বিচার হবে, আর এই দেশের নিরীহ জনগণ যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের হত্যাকারীদের বিচার হবে না? আমরা কথা দিচ্ছি, এই বিচারও হবে। যেদিন, যে মাস, যে বছরই হোক, হবে।’
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন, নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ অনেকে।