হোম > রাজনীতি

বিদায়ী সাক্ষাতে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব, স্মৃতিচারণায় জুলাই আন্দোলন ও ‘মব’ মোকাবিলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ শুক্রবার রাতে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতের পর নিজেদের প্রায় আড়াই বছরের দায়িত্বকাল নিয়ে পৃথক ফেসবুক পোস্টে স্মৃতিচারণ করেন রাকিবুল ও নাছির। তাঁদের পোস্টে জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ভূমিকা, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব মোকাবিলা, সংগঠনকে সক্রিয় রাখা ও সাংগঠনিক সম্প্রসারণের বিষয় উঠে এসেছে।

রাকিবুল ইসলাম জানান, তাঁদের কমিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা রাখা। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত ‘মব’ মোকাবিলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ধারাবাহিক বুলিং উপেক্ষা করে সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির বিকাশে কাজ করার দাবি করে রাকিবুল বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কারণে যেন কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে সতর্ক ছিলেন। নিজের দলের বাইরের শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় তাঁর কাছে এলে সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলে জানান তিনি।

দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাকিবুল। দায়িত্বকালে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলেও প্রত্যাশা জানান তিনি।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন তাঁর দায়িত্বকালকে ‘দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল ও একই সঙ্গে গৌরবের অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাছিরের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় নেতা-কর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, সাহস জোগানো ও সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সে সময় ছাত্রদলের অসংখ্য নেতা-কর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবদুল কাদেরসহ অন্যদের সঙ্গে কাজ করার কথা স্মরণ করেন নাছির। তিনি বলেন, পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রদলের অবদান হয়তো সব সময় সমানভাবে স্বীকৃতি পায়নি, তবে সংকটের সময়ে একসঙ্গে কাজ করার, সহযোগিতার মূল্য অপরিসীম।

দায়িত্বকালের আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ‘মব সংস্কৃতি’র কথা উল্লেখ করেন নাছির। তাঁর ভাষায়, নানা প্রচারণা, অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও সংগঠনকে সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা সহজ ছিল না।

নাছির জানান, তাঁদের দায়িত্ব পালনের সময়ে দুই হাজারের বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে এটিকে কোনো ব্যক্তির একক কৃতিত্ব নয়, বরং ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

দায়িত্ব ছাড়লেও ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পর্ক, সংগ্রাম ও আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না—এমন বার্তা দিয়েছেন নাছির। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বিদায় নেন।