জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় দেশের সংবিধান সংশোধন হয়েছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলেও সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বর্তমান সময়েও সংবিধান সংশোধন হতে পারে। তবে তা হতে হবে দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্রের বিকাশ ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে।
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাপার যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, সংবিধান একটি চলমান দলিল। সময়, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই সংবিধান সংশোধনের নজির রয়েছে। বাংলাদেশেও অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধন হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন দেখা দিলে তা হতে পারে।
নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের যে সুপারিশ করেছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই।’
জাপার চেয়ারম্যান আরও বলেন, এই সুপারিশ দেখে মনে হচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে তাদের আন্তরিকতা রয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
সভাপতির বক্তব্যে মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। মতের ভিন্নতা থাকলেও রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান আইনি সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার পাবেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মোস্তাক আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী নাসরিন জাহান রতনা, চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সরদার শাহজাহান, বেলাল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক প্রমুখ।