জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপিকে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ খুনি, আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী। আওয়ামী লীগ গণহত্যাকারী। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, ভারতে দাফন হয়েছে। এই চ্যাপ্টার ক্লোজড।’
আজ বুধবার দুপুরে ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপি ভোলা জেলা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস এসব কথা বলেন।
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস বলেন, ‘বিএনপির ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট না। তাঁরা আস্তে আস্তে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করতেছে। তারা প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি করতেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাইভাতে ৪০০% মার্কস বাড়াচ্ছে। যাতে প্রিলি-রিটেন টিকলেই বিএনপির কোটায় তাদের চাকরি দেওয়া যায়। আমরা মনে করি, বিএনপি যেই কাজগুলো করছে, এটা তাদের পুরোনো কায়দা। বিএনপিকে তাদের পুরানো সেই কায়দা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আর যদি বের না হয়, তাহলে রাজপথে আমাদের কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে।’
বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে সারজিস আলম আরও বলেন, ‘ডিসি, এসপি ও ইউএনওসহ প্রশাসনকে বিএনপি নেতা এবং বিএনপি অফিস থেকে তাদের মতো করে চালাতে চায়। যদি এভাবে সরকার চালাতে চায়, তাহলে বাংলাদেশে সংস্কার কখনোই সম্ভব নয়। তাই, আমরা প্রত্যাশা করছি এবং বিএনপির প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে—তাঁরা তাদের সেই পুরোনো চরিত্র, পুরোনো অভ্যস্ততা এবং পুরোনো মনস্তত্ত্ব মনোভাব থেকে বের হয়ে আসবে।’
সারজিস আলম বলেন, ‘না হলে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে বিএনপির রাজনীতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে এবং বিএনপি যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে তাহলে আমরা মনে করি আগামী পাঁচ বছর বিএনপির ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।’
পে স্কেল বাড়ানোর জন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এনসিপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর জন্য আমরা সরকারকে সাদুবাদ জানাই। কারণ, এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে বেতন পেত, সেই বেতন দিয়ে এখনকার সময়ে পরিবার নিয়ে কেউ চলতে পারবে না। তবে, আমরা সেই সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুরোধ করব, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। তাই, এখন আপনাদের দায়িত্বটা, পেশাদারত্বটা সততার মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করবেন।’
সারজিস আরও বলেন, ‘এরপরও যদি আপনাদের মধ্যে দুর্নীতি দেখতে পাই, ঘুষের টাকার বিনিময়ে কাজ দেখতে পাই, তাহলে বাংলাদেশে যদি আবারও কখনো এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে এ দেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধেও নামবে। ওই দিন আর কেউ অফিসে অফিস করতে পারবেন না।’
এর আগে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভোলা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারোয়ার তুষার, বিভাগীয় সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম, যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল অঞ্চল) শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, কেন্দ্রীয় সংগঠক কাজী সালমান, যুবশক্তি ভোলার আহ্বায়ক এম রাসেল, সদস্যসচিব জাবেদ মাহমুদ ফিরোজ, ছাত্রশক্তির ভোলার আহ্বায়ক আর এস হিমুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।