দলীয় কর্মীদের লুটপাটের জন্য বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম বাজেট হলেও এই বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে দলীয় কর্মী পালনের বাজেট উপস্থাপন করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন হামিদুর রহমান আযাদ।
যাঁরা বাজেট প্রণয়ন করেছেন, তাঁরা ধনী বলে ধনীবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছেন বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, তাঁরা গরিবের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন না। এ জন্য তাঁরা গরিববান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে পারেননি। বাজেট প্রণয়নে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করা সম্ভব।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারের প্রধান আয়ের উৎস এনবিআরের রাজস্ব আদায়। কিন্তু এবার যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা গত বছরের আদায়কৃত কর আয়ের দ্বিগুণের বেশি।
‘আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন নাকি যে একলাফে দ্বিগুণ কর আদায় করবেন?’ —এমন প্রশ্ন রেখে হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, বাজেট বড় করা হলেও আয়ের বাস্তবভিত্তিক উৎস নেই। ফলে করের চাপ সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের উপস্থাপিত বাজেট থেকে ১ লাখ কোটি টাকার কম বাজেট প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী। কারণ, জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটে দলীয় কর্মীদের পালন করা হবে না, লুটপাটের সুযোগ থাকবে না, দুর্নীতি হবে না।
প্রস্তাবিত বাজেট কোনোভাবেই জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী নয়—মন্তব্য করে জামায়াতের ছায়া বাজেটের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের এই নেতা।
মাথাপিছু ঋণের প্রসঙ্গ তুলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের প্রত্যেক মানুষের ওপর বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। এমনকি নবজাতকের ওপরও এই ঋণের চাপ বর্তায়। ঋণনির্ভর বাজেটের কারণে একদিকে যেমন মাথাপিছু ঋণ বাড়বে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দলের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ শামছুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক সরকারের উপস্থাপিত বাজেট সংশোধন করে জনবান্ধব বাজেট ঘোষণার দাবি জানান।