হোম > রাজনীতি

জ্বালানিসংকট সক্ষমতার নয়, জবাবদিহির ঘাটতির ফল: নাজিব

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

সংসদে পাবনা-১ আসনের জামায়াতের এমপি মো. নাজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সক্ষমতার নয়, বরং দুর্নীতি, ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, সিদ্ধান্তহীনতা ও জবাবদিহির ঘাটতির ফল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সদস্য মো. নাজিবুর রহমান। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দয়া নয়, মানুষ বিল দেয়, মানুষ কর দেয়। বিলের টাকায় তাঁর ঘরে আলো থাকবে, চুলায় আগুন জ্বলবে।’

নাজিবুর রহমান বলেন, ‘দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হলেও সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছে সরকারের বকেয়া প্রায় ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, অথচ তাদের প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে।’

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে প্রায় ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রতিদিন ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে গত অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি ও অর্থসংকটে এর বড় অংশ অব্যবহৃত রয়েছে। এভাবে বকেয়ার দুষ্টুচক্র তৈরি হয়েছে।’

তেল আমদানির ক্ষেত্রেও অপচয়ের অভিযোগ তুলে নাজিবুর বলেন, ‘অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করা গেলে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং কার্যকরভাবে ব্যবহার না হওয়ায় আরও প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে।’ ক্রুড অয়েলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারি অনেক সময় বন্ধ থাকে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি জানিয়ে নাজিবুর বলেন, ‘মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। এই মিটার ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। এটাকে আমি ডিজিটাল চাঁদাবাজি বলতে চাই। এই ডিজিটাল চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র সচল রাখা, অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন নাজিবুর রহমান। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তত্ত্বাবধানে কার্যকর একটি ‘জ্বালানি জরুরি সেল’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। পেট্রোবাংলা, বিপিডিবি, পিজিসিবি, আরইবি ও বিপিসিকে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলেন নাজিব।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি দুটি এফএসআরইউ পূর্ণ সক্ষমতায় প্রস্তুত রাখা, জরুরি এলএনজি ক্রয়, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের ওয়ার্কওভার দ্রুত শেষ এবং ভোলা, জামালপুর, লাকিগঞ্জ ও নোয়াখালীর গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বাপেক্সের সক্ষমতা ও রিগ পরিচালনার জনবল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাজিবুর রহমান এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিসে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। এলএনজি ও এফএসআরইউ ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং মালিকানা ও স্বার্থের সম্পর্ক প্রকাশেরও দাবি করেন নাজিবুর। দীর্ঘ মেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।