হোম > রাজনীতি

দুদক স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব: আসিফ মাহমুদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে দুদককে নিরপেক্ষ মনে হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মিডিয়া ট্রায়ালের জন্য দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের করা অভিযোগের ‘প্রকৃত তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ’ প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরে এনসিপি।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদক যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করে, তাহলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। কিন্তু এখানে একটা সীমা থাকা উচিত। প্রথমত, যে অভিযোগের নামে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে, সেটাই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা মনে করছি, এই অনুসন্ধান আসলে অনুসন্ধান নয়; এটি রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করার একটি প্রক্রিয়া।

বিএনপি সরকারের সময়ে সংঘটিত একটি ঘটনার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, যে ঘটনার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় তিন মাস পরের। অথচ তার আগেই তিনি সরকারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

আসিফ বলেন, যদি এই অনুসন্ধান করতেই হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে হবে, আমার বিরুদ্ধে নয়। আমি একেবারে ডকুমেন্ট দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি, যে নির্দিষ্ট ঘটনার কথা বলা হয়েছে, সেটি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাস পরের ঘটনা। অথচ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসেরও বেশি সময় আগে আমি পদত্যাগ করেছি।

নিজের পদত্যাগের সময় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পদত্যাগপত্র দিয়েছি এবং ১১ ডিসেম্বর সেটি কার্যকর হয়েছে। ফলে যে সময়ের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানের কথা বলা হচ্ছে, তখন আমি সরকারের দায়িত্বে ছিলাম না।’

আরেকটি পদায়নে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আসিফ বলেন, সেটি আদালতের রায়ের মাধ্যমে হয়েছে। সুতরাং সেখানে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

দুদকের বর্তমান কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, জুলাইয়ের সময় যে সংস্কার হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা থাকবে। দুদকের কমিশন-সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ হয়েছিল, সেটি পরবর্তী সময়ে বাতিল করে আবার দলীয় কায়দায় দুদক গঠন করা হয়েছে। এখন সেই দুদকও রাজনৈতিক কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে।

তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘খুবই স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক কারণে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। এই অনুসন্ধান করার জন্য যথেষ্ট কোনো ধরনের কারণ ছিল না।’

আসিফ আরও বলেন, ‘কোনো অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, সেটি তদন্ত বা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে—সেটারও কোনো সুযোগ এখানে রাখা হয়নি। আমার মনে হচ্ছে, শুধুমাত্র মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

দুদকের মুখপাত্র তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের’ প্রাথমিক সত্যতা’ পেয়েছেন উল্লেখ করে যে ভুল বক্তব্য দিয়েছিলেন তা প্রত্যাহার না করায় এবং ক্ষমা না চাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানান আসিফ। তিনি বলেন, ‘আমি একজন নাগরিক হিসেবে আমার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন, সেটিই নিয়েছি।’

নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আপনারা প্রশ্ন করেন, আমার বিরুদ্ধে কেন এক মাস, দুই মাস বা তিন মাস ধরে এত আলোচনা থাকে। এর কারণ আপনারাও সবাই জানেন।’

আসিফ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক উদ্যোগ নিতে গিয়ে আমাকে অনেক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হয়েছে। যারা এখন ক্ষমতাশালী, তাদের অনেকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরোধ তৈরি হয়েছে। তারা এখন সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি এবং আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করার একটি উপায় হিসেবে এটিকে নিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তাহসিন রিয়াজ, ইয়াসির আরাফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।