ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার পূর্বনির্ধারিত শেষ দিনে আজ রোববার রাত পর্যন্ত জমা পড়েছে ৯ শতাধিক ফরম। নির্ধারিত ওই সময়ের বাইরে আজ সোমবারও মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত শুক্রবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দপ্তর সূত্র বলছে, তিন দিনে ১ হাজার ২০০টির বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন ৯ শতাধিক নারী নেত্রী।
আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হয় রাত ৯টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও আজ অনেকে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেননি। দলীয় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আজও মনোনয়ন ফরম জমা নেওয়া হতে পারে।
রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে আসা নারী নেত্রী, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, নারী উদ্যাক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগী হেভিওয়েট নেত্রীদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক পরিচিত মুখ।
তবে বিগত সময়ে আন্দোলনে ভূমিকা না থাকা, দলীয় পদ-পদবি না থাকা অনেকের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও কারও কারও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভও জানান কেউ কেউ।
দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এবার সংগঠন করার দক্ষতা, মেধা ও মননশীলতা—সব মিলিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার সময়সীমা আপাতত নির্ধারিত থাকলেও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব চাইলে তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হতে পারে।
কিছু সেলিব্রিটির মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দলে সেলিব্রিটি আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও একজন বড় শিল্পী বা কণ্ঠশিল্পীর রাজনৈতিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবাইকে কি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে? একজন বিখ্যাত শিল্পী যদি দলের পক্ষে অবস্থান নেন, সেটাও বড় অবদান।
বিএনপির লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রার্থী নির্বাচনে শেষ কথা হবে যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি নিষ্ঠা।