মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মো. দেলাওয়ার হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
আজ রোববার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসেনের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। শিগগির এই আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন।
প্রার্থী ঘোষণার অনুষ্ঠানে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দেশের সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনে দলের দায়িত্বশীলদের সাহস, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে আবদুল হালিম বলেন, সব ধরনের বাধা, প্রলোভন ও উসকানি মোকাবিলা করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অঞ্চল টিমের সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুর জেলার সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা আমির ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর।
এদিকে সমাবেশে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান মাওলানা আবদুল হালিম। জুলাই জাতীয় সনদ কার্যকর, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।