জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে নাহিদ জানান, তাঁর সঙ্গে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতে তানভীর ‘ভয়াবহ নির্যাতনের’ শিকার হয়েছেন। হাসপাতালে তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত ও হতভম্ব হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিএনপির এক নেতার করা মামলায় তানভীরকে ‘অন্যায়ভাবে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তারের পর তানভীরকে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং জামিন না দিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গত ১০ আগস্ট বগুড়ার আদালত তানভীরকে তিন দিনের রিমান্ড দেন।
নাহিদের অভিযোগ, রিমান্ডে তানভীরের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং শরীরে অজ্ঞাত একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়। এতে তাঁর শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তানভীরের আইনজীবীর বরাত দিয়ে নাহিদ আরও বলেন, গত ১৫ আগস্ট কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।
অসুস্থ হওয়ার পর তানভীরকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি প্যানিক ডিজঅর্ডার, তীব্র মাথাব্যথা ও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরকে এক বছরের জামিন দেন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
নাহিদ বলেন, অপরাধ করলে কাউকে বিচারের আওতায় এনে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। তবে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগ এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
রিমান্ডে তানভীরকে কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, কোনো ইনজেকশন দেওয়া হলে সেটি কী এবং কে ও কেন তা দিয়েছিল—এসব বিষয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট জবাব দাবি করেন নাহিদ। একই সঙ্গে তানভীরের সম্পূর্ণ মেডিকেল রেকর্ড প্রকাশের দাবিও জানান তিনি।