হোম > রাজনীতি

অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা-ধর্ষণ ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট। ছবি: আজকের পত্রিকা ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, একটি দল অনিয়মের নির্বাচনে জিতে দেশজুড়ে হামলা-ধর্ষণ শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, ‘এসব কর্মকাণ্ড আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’ আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সারা দেশে জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা নির্বাচনে ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা শেষ করে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে কোনো টালবাহানা ছাড়াই এর তদন্ত করতে হবে। অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা-ধর্ষণ আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটে ‘না’ ভোট ও ধানের শীষের ভোট সমান হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। তারা (বিএনপি) না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। নতুন সরকার গণভোটে পাস হওয়া সবগুলো বিষয় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু নির্বাচনের পর কিছু পেইড বুদ্ধিজীবী বলছেন সরকার সবকিছু মানতে বাধ্য নয়।

পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয়, তাহলে তাদের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।

গোলাম পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার শেষ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ মেনে নিতে হবে। একচুল পরিবর্তন জনগণ মেনে নেবে না।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা আশা করেছিলাম, জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করা হয়েছে। সারা দিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।’

মামুনুল হক আরও বলেন, এই নির্বাচনের পর সারা দেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে, তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সংসদে যাওয়ার আগেই আমাদের রাজপথে নামতে হবে, এটা ভাবি নাই। জনগণের ওপর বিশেষ করে নারী সমাজের ওপর যে হামলা-নিপীড়ন হচ্ছে, তা জঘন্য অপরাধ।’ এসব বিষয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে ১১ দল একসঙ্গে লড়াই করে যাবে বলেও জানান তিনি।

কর্নেল অলি আহমেদের পুত্র ও এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রেখে আমরা ভুল করেছি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মানুষদের নিয়েই এই নির্বাচন হয়েছিল। হাদির খুনিদের পালানোর পরেই আমাদের সাবধান হওয়া দরকার ছিল। ১১ দল উদারতা দেখিয়ে ভুল করেছে। এরপরেও বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন করতে না পারে।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, তারেক রহমানের প্ল্যান ছিল ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং। দেশে এসেই তাঁর প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছেন। তারপর শুরু হয়েছে সারা দেশে হামলা-নিপীড়ন।

জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, ‘২০২৪ সালের ডামি ভোটের পর ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট। পুলিশকে, প্রশাসনকে, কমিশনকে ম্যানেজ করে ভোট ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে। ভোটের পরেই তারা হামলে পড়েছে বিরোধীদের ওপর। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই, মজলুমরা থামতে জানে না।’

বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারা শুধু ভোট চুরি করেনি, বরং ডাকাতি করেছে। পার্লামেন্টে যে ভোট ডাকাতরা গেছে, তাদের ১১ দল রাজপথে জবাব বুঝে নেবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘রাজপথে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে আমার বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে। প্রতিটি হিসাব আমরা ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমানের কাছে বুঝে নেব। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হবেন না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ১১ দলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটক থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন মোড় হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

দেশ ও জাতির স্বার্থে পাশে আছি: জামায়াত আমির

সরকার গঠনের আগেই আন্দোলনের ডাক দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়: হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ইসলামী আন্দোলনের আমিরের বাসায় তারেক রহমান

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সালাহউদ্দিন বললেন, ‘এতগুলো হয়—এর পরে, হলে হতে পারে’

শপথ অনুষ্ঠানে হেফাজত আমিরকে আমন্ত্রণ জানালেন তারেক রহমান

জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে সন্ধ্যায় যমুনায় যাচ্ছেন এনসিপি নেতারা

এনসিপি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে: নাহিদ ইসলাম

জামায়াত জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হবে: তাহের

তারেক রহমানের আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত: জামায়াত আমির

রাজধানীতে জামায়াত জোটের প্রতিবাদ মিছিল কাল