অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের সরকারি মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল ও শক্তিশালী করা এবং জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনটি বলেছে, সরকার ভুল নীতির পথে এগোলে জনগণ প্রতিরোধের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঔষধ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের মূল্য পুরোপুরি বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঔষধের দাম নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা এমনিতেই সংকটের মধ্যে রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা ঔষধও রোগীদের হাতে পৌঁছায় না। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষকে বাজার থেকে ঔষধ কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ঔষধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল বা বাতিল করা হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে সৈকত আরিফ বলেন, ‘ঔষধ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঔষধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।’
জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা জ্বালানি খাতই যখন সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তখন বেসরকারি খাতে তুলে দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
সংগঠনের সভাপতি সৈকত আরিফ বলেন, জ্বালানি খাতের ব্যয় বাড়লে বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্পসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে তার প্রভাব পড়বে। এতে পণ্য ও সেবার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
সৈকত আরিফ আরও বলেন, ‘জ্বালানি খাতসহ পাটকলগুলোকে আমরা দেখছি সরকার বেসরকারি খাতে তুলে দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকা জ্বালানি খাত যখন সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তখন বেসরকারি খাতে তুলে দিলে তার ফলাফল হবে ভয়াবহ। যার শিকার হবে সাধারণ মানুষ। ” সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “ভুল পথে হাঁটবেন না। ভুল পথে হাঁটলে জনগণ তার মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।’
মানববন্ধনে বক্তারা অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের সরকারি মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল ও কার্যকর করা, মানুষের আয়-সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঔষধের দাম নির্ধারণ এবং জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানান।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আরা, সাংগঠনিক সম্পাদক আরমানুল হক, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক আল-আমীন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সজিব হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৃজয় সাহাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক নাসিম খান, ঢাকা মহানগর শাখার সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তুহিন ফরাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিবুর রনিসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।