বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সবার পথ যেন মিশেছে ৩০০ ফুট নামের এই সড়কে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। লাখো মানুষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে আছে ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এলাকা। তারেক রহমানের সংবর্ধনা মঞ্চের আশপাশের এলাকায় দাঁড়ানোরও কোনো জায়গা নেই। সংবর্ধনা মঞ্চে ১৯টি সাজানো আছে। মঞ্চের চারপাশ ঘিরে রেখেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
১৭ বছরের নির্বাসন জীবন কাটিয়ে দেশের ফিরেছেন তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে তারেক রহমানের ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ বিমানের লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইটে বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় লন্ডনের হিথ্ররো বিমান বন্দর ছাড়েন তিনি। সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটির ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ঢাকায় পৌঁছে এয়ারপোর্ট থেকে পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
গতকাল বুধবার রাতেই অনেকে ৩০০ ফুট সড়কে অবস্থান নেন। শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষ সেখানে পৌঁছান। ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকার লোকজন বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ৩০০ ফুট সড়কের উদ্দেশে রওনা দেন। বরিশাল, রাজশাহী, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ ট্রেনগুলোতে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন সময় ঢাকায় পৌঁছেছেন।
সকালে দেখা যায়, মাথায় রঙিন ক্যাপ, গায়ে একই রঙের টি-শার্ট পরে মিছিল নিয়ে পায়ে হেঁটেই পূর্বাচলের দিকে রওনা হয়েছেন লাখো মানুষ। বেশিরভাগ মানুষের হাতে রয়েছে তারেক রহমান ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষও বিশ্বরোডের আশপাশে তাদের গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে পূর্বাচলের দিকে রওনা হয়েছেন।
রংপুর থেকে ঢাকায় আসা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অনেক বছর পর নেতাকে নিজের চোখে দেখার লোভ সামলাতে পারিনি।’
ঢাকার পল্লবী এলাকার শরীফুল ইসলাম সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অন্যদের সঙ্গে মিছিল নিয়ে পূর্বাচলের দিকে যাচ্ছিলেন। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘এমন দিন জীবনে খুব কম আসবে। তাই নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।’
বসুন্ধরায় ৩০০ ফুটের সংবর্ধনাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। বিমানবন্দর, পূর্বাচল, বনানী, যমুনা ফিউচার পার্ক পয়েন্টে নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিছিল করছেন।