বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে যাবে। তিনি সরকারের প্রতি বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানান।
আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট —এটা কোথা থেকে পূরণ করা হবে?
তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় ঘাটতি বাজেটের ব্যয় সংকুলানে ব্যাংক লোন করা হবে, তাতে আমাদের বিনিয়োগ, বেসরকারি বিনিয়োগ তো অটোমেটিক্যালি কমে যাবে।’
এর ফলে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত কোনো কাঠামো সরকার দেখাতে পারেনি—এমন অভিযোগ করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট —কোথা থেকে ঘাটতি পূরণ করা হবে? যে সোর্সগুলো দেখানো হয়েছে তাতে রাজস্ব আয় করতে গেলে যে কর কাঠামো লাগে, দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসন লাগে, সেগুলো কিছুই নাই।
কর বৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভাষার ছলচাতুরীতে উনারা বলেছেন যে আমরা করের উৎস বাড়াচ্ছি। বাস্তবে করের জাল তৈরি করে নাগরিক জীবনে এটার যে চাপ, সেটাকে উনারা শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমেই চালাকি করে কর বৃদ্ধির জায়গাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকারের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে তিনি ‘ফাঁকা বুলি’ ও ‘চটকদার সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘এডিপির নামে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।’
তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগাভাগি হয়ে যায় এবং প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারঘোষিত মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি জানান, জামায়াত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে, যেখানে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার ইয়ারভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইন করে লুটপাট করে কালো টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।’ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব, জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়ন’ করতে হবে। একই সঙ্গে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।